সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পার, তবু কাগজ থেকে মাটিতে সম্পূর্ণ রূপ পেল না বাগনান–আমতা–চাঁপাডাঙা রেল প্রকল্প। ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন রেলমন্ত্রী গনি খান চৌধুরী–এর আমলে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল হাওড়া–খড়গপুর রেলপথ–এর বিকল্প সংযোগ তৈরি করা।
প্রকল্পের জন্য দামোদর নদ–এ একটি রেলসেতুর প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে ৮টি স্তম্ভ নির্মিত হলেও, প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় পরবর্তী কাজ আর এগোয়নি। ২০১০ সালে শিলান্যাস অনুষ্ঠান ২০১০–এর মাধ্যমে কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়, কিন্তু ২০১২-এর পর থেকে নির্মাণ থমকে যায়।
প্রকল্প কোন পথে আটকে —
- বাগনান–আমতা (১৬ কিমি) — জমি না মেলায় স্থবির
- বরগাছিয়া–চাঁপাডাঙা (৩২ কিমি) — জমিজটে আটকে
- চাঁপাডাঙা–তারকেশ্বর (৮ কিমি) — জমি সমস্যায় অগ্রগতি শূন্য
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল নয়, জমি পাওয়া গেলে ফের কাজ শুরু করা যেতে পারে। তবে বাস্তবচিত্র কঠোর— কেন্দ্রীয় বাজেট–এ বর্তমানে এই প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থবরাদ্দ নেই এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় আমতা–বাগনান–চাঁপাডাঙা অঞ্চলজুড়ে রেলসংযোগ চালুর দাবিতে একাধিক নাগরিক সংগঠন প্রশাসনের দ্বারে দরবার করলেও, জমি অধিগ্রহণ সমস্যা শেষ না হওয়ায় অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থেকেও কার্যত রেললাইনবিহীন স্তম্ভই সম্বল।
বাসিন্দাদের ক্ষোভ— “স্তম্ভ আছে, সেতু নেই, রুট আছে, রেল নেই— যোগাযোগের স্বপ্নটা আজও দিগন্তে দাঁড়িয়ে হাতছানি দিচ্ছে মাত্র।”

![]()

More Stories
ওড়ন ষষ্ঠীতে বস্ত্রদান ও সহমর্মিতার বার্তা—অগ্রহায়ণের শ্রীক্ষেত্রে মানবিকতার নতুন অধ্যায়
জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির — গ্রামবাংলার বিশ্বাসের এক অনন্য তীর্থ
গণতন্ত্রে অন্তর্ভুক্তির বার্তা: তৃতীয়লিঙ্গ, যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ