সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ভাবা যায়—বিদ্যুতের পোলও হয়ে উঠতে পারে একেকটি শিল্পকর্ম? অস্ট্রিয়া দেখিয়ে দিল, প্রযুক্তি আর সৌন্দর্য হাত ধরাধরি করেই এগোতে পারে। সম্প্রতি দেশটিতে তৈরি হচ্ছে এমন সব বিদ্যুৎ-টাওয়ার, যেগুলো দেখতে যেন প্রকৃতির প্রাণীদের জীবন্ত ভাস্কর্য! কোথাও দাঁড়িয়ে আছে শিংওয়ালা হরিণ, কোথাও আবার ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে লম্বা ঠোঁটওয়ালা পাখি—আর এই শিল্পিত দেহের ভেতর দিয়েই বইছে বিদ্যুতের স্রোত।
এই অনন্য প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে Austrian Power Grid (APG) ও খ্যাতনামা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান Meissl Architects। বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে নান্দনিকতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
অস্ট্রিয়ার মানুষ বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন—বিদ্যুতের মোটা লোহার খুঁটিগুলো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যায় না। সেই কারণেই উদ্যোগ: বিদ্যুতের পোল হবে আর শুধু লোহার কাঠামো নয়, হয়ে উঠবে শিল্পের অংশ।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশ ও স্থানীয় বন্যপ্রাণীর পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হচ্ছে এই পোল।
- পাহাড়ি এলাকায় হরিণ আকৃতির টাওয়ার
- জলাভূমির কাছে পাখি আকৃতির পোল
ফলে এগুলো শুধু বিদ্যুৎ বহন করছে না, একই সঙ্গে অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন ও নান্দনিক পরিবেশে যোগ করছে নতুন মাত্রা।
এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে ২০২৫ সালের Red Dot Design Award—যা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ডিজাইন পুরস্কার। বর্তমানে চলছে বৈদ্যুতিক ও স্ট্যাটিক নিরাপত্তা পরীক্ষা। আগামী বছর থেকেই শুরু হবে নিয়মিত ব্যবহার।
অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করল—প্রকৃতি আর প্রযুক্তি একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সৃজনশীলতার কাছে তারা পরিপূরক।
দেশজুড়ে এখন আলোচনার বিষয়—শিল্প যখন ছুঁয়ে যায় অবকাঠামোকে, তখন সে শুধু প্রয়োজন মেটায় না, হয়ে ওঠে সভ্যতার সৌন্দর্যবাহী এক নতুন প্রতীক।


![]()

More Stories
জোহানেসবার্গে জি–২০ শীর্ষ সম্মেলনে মোদীর ছ’দফা নয়া উদ্যোগ
অশ্বিনীর বরিশাল
জাতিসংঘের মঞ্চে বাঁকুড়ার মাটির সন্তান — অথচ নীরব পশ্চিমবঙ্গ!