সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ দুর্গাপুরের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT)-এর গবেষকরা ভূগর্ভস্থ জল দূষণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, শিল্প ও কৃষি প্রধান দামোদর নদী অববাহিকার ভূগর্ভস্থ জলে মিলেছে কমপক্ষে ১২ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের রাসায়নিক উপস্থিতি।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমিত দাশগুপ্তের নেতৃত্বে। গবেষক দল আসানসোল, বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া–সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করেন। পরীক্ষায় পাওয়া গেছে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্ৰোনিডাজোল–সহ একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক যৌগ। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপদ সীমার চেয়েও বেশি, যা ধরা পড়েছে লিটারপ্রতি ন্যানোগ্রাম এককের ক্ষুদ্র মাত্রায় হলেও প্রভাবের দিক থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
গবেষকরা বলছেন, মূলত মানুষ ও পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও ওষুধজাত বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় পরিবেশে মিশে যাওয়ার ফলেই ভূগর্ভস্থ জলস্তরে এই দূষণ ঘটছে। অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দূষণ প্রবাহকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা ভয়াবহ?
দুষিত জল নিয়মিত পান করলে মানব শরীরে রোগ–সৃষ্টিকারী জীবাণুর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা “রেজিস্ট্যান্স” তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ চিকিৎসাকেও কঠিন ও অকার্যকর করে তুলবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরে রাসায়নিক প্রবেশ অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার গুরুত্ব বিবেচনায় এটি একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান–বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দল ইতিমধ্যেই দূষণ রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এনেছেন।
ড. সুমিত দাশগুপ্ত বলেন— “পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এখনই বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও জলদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড়সড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে।”
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, দামোদর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষদের সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

![]()

More Stories
জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন
আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, গ্রহদের কুচকাওয়াজ
ওজনে কারচুপি সতর্ক থাকুন! সোনার দোকান,সবজি বাজার থেকে হাসপাতাল—ভেরিফিকেশন না দেখলে ঠকতে পারেন