ব্যক্তিগত আড়ম্বর নয়, সংগ্রামের তহবিলে বিবাহের আনন্দ,নবদম্পতির দৃষ্টান্তে পার্টির আদর্শের জীবন্ত প্রতিফলন
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজকের পুঁজিবাদী সমাজে বিবাহ মানে কর্পোরেট ভোগের নগ্ন প্রদর্শন—লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়, আতশবাজির শব্দে শ্রমজীবী মানুষের কান ঝালাপালা করা, আর অপচয়ের মধ্য দিয়ে শ্রেণি বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তোলা। ঠিক এই অন্ধ ভোগবাদী উন্মাদনার বিরুদ্ধেই এক দৃপ্ত রাজনৈতিক অবস্থান নিলেন হুগলি জেলার এক নবদম্পতি। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিছক দান নয়—এ এক সচেতন শ্রেণি-অবস্থান, এক সংগ্রামী ঘোষণাপত্র।
পার্টির হুগলি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জীর পুত্র রক্তিম চ্যাটার্জী ও পুত্রবধূ ঈশানী, তাঁদের বিবাহ উপলক্ষে আজ (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) হুগলি জেলা পার্টি কমিটির সভায় উপস্থিত হয়ে পার্টির সংগ্রামী লড়াইকে শক্তিশালী করতে মোট ২৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
নবদম্পতি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সৈয়দ হোসেনের হাতে গণশক্তি পত্রিকা তহবিলে ১০,০০০ টাকা, পার্টি জেলা সম্পাদক কমরেড দেবব্রত ঘোষের হাতে হুগলি জেলা পার্টি তহবিলে ১০,০০০ টাকা এবং আসন্ন আরামবাগ বিধানসভা নির্বাচনে শাসকশ্রেণির অর্থবল ও প্রশাসনিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিটির তহবিলে কমরেড শক্তিমোহন মালিকের হাতে ৫,০০০ টাকার চেক তুলে দেন।
সভায় উপস্থিত পার্টি নেতৃত্ব এই উদ্যোগকে “শ্রেণি-সচেতন রাজনীতির জীবন্ত উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আজ যখন বহু পার্টির সদস্য পর্যন্ত সামাজিক চাপে ভোগবাদী সংস্কৃতির সঙ্গে আপস করেন, তখন এই নবদম্পতি প্রমাণ করে দিলেন—বামপন্থী রাজনীতি মানে আপস নয়, অবস্থান।
এই ঘটনা এক কঠোর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় পার্টি ও সমাজের সামনে—
কতজন পার্টির সদস্য তাঁদের সন্তানদের এমন শ্রেণি-চেতনার শিক্ষা দিতে পেরেছেন?
কতজনই বা ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্তে শোষিত মানুষের লড়াইকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হয়েছেন?
আজ যখন শাসকশ্রেণি ধর্ম, জাতপাত ও ভোগের উন্মাদনা দিয়ে মানুষের প্রকৃত শত্রুকে আড়াল করতে ব্যস্ত, তখন রক্তিম ও ঈশানীর এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয়—সংগ্রামের রাজনীতি এখনও জীবিত, এখনও তা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে পারে।
এই নবদম্পতির পদক্ষেপ প্রমাণ করে, বামপন্থী আদর্শ কোনও স্মৃতিচিহ্ন নয়—তা এক জীবন্ত অস্ত্র। যে অস্ত্র দিয়ে পুঁজিবাদী শোষণ, ভোগবাদী সংস্কৃতি ও শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়। তাঁদের এই শ্রেণি-সচেতন অবস্থান নিঃসন্দেহে পার্টির কর্মী-সমর্থকদের কাছে এক রাজনৈতিক শিক্ষা এবং আগামী দিনের সংগ্রামের পথে এক দৃঢ় অনুপ্রেরণা।

![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত