February 3, 2026

আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; দীর্ঘদিন ধরেই আরামবাগ শহর ও শহরতলীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল হয়ে রয়েছে। কোথাও বড় বড় ছোট পাথরের স্তর উঠে গিয়ে রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে, কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, আবার কোথাও রাস্তার কাজ শুরু হলেও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় অনেকে কমবেশি আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে আমরা হাজির হয়েছিলাম আরামবাগ পিডব্লিউডি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার-এর কাছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার কাজ চলছে এবং আশা করা যায় আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই বেশিরভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, আরামবাগ শহরের সব রাস্তা পিডব্লিউডি-র অধীনে নয়, অনেক রাস্তা পুরসভা, পঞ্চায়েত বা অন্যান্য দপ্তরের আওতাভুক্ত হলেও সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ে আরামবাগ পিডব্লিউডি অফিসে এসে অভিযোগ জানান, তবে এই ধরনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফরওয়ার্ড করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী আরামবাগের গুরুত্বপূর্ণ রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয় বলে তিনি স্বীকার করেন এবং জানান সেতুর নিচে সাপোর্ট দেওয়ার কাজ চলছে যাতে সেতু আরও নিরাপদ থাকে। তাঁর মতে, রাস্তাঘাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ওভারলোডিং, অতিরিক্ত ওজনের যান চলাচলের জন্যই রাস্তার ক্ষতি বাড়ছে। নতুন ব্রিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাটি পরীক্ষা হয়ে গেছে এবং অন্যান্য প্রাথমিক কাজ এগোচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত নতুন ব্রিজের স্যাংশন অর্ডার হয়নি। আরামবাগের উপর যেভাবে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, তাতে বাইপাস অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় নয়নজুলি ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তা সংকীর্ণ হচ্ছে এবং তার ফলেই যানজট বাড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ যাতে রাস্তার সমস্যা সম্পর্কে তাঁদের মতামত বা অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই জন্য একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর (9073362634, https://pwd.wb.gov.in/ ) ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লোকেশন অনুযায়ী ছবি এবং তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থার কথাও তিনি জানান। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, শুধুমাত্র পিডব্লিউডি অফিসের পক্ষে রাস্তার স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব নয়, এই দায়িত্ব সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষেরও নেওয়া উচিত—তবেই আরামবাগের রাস্তাঘাট নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী রাখা সম্ভব হবে।

Loading