সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; খানাকুলের নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ্ত বাগের সাফল্যে গর্বিত গোটা খানাকুল। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WPSC) পরিচালিত ২০২৩ সালের ডব্লিউবিসিএস (গ্রুপ-বি) পরীক্ষায় সাধারণ মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকার করে তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। পুলিশ সার্ভিসে তাঁর র্যাংক নবম। খানাকুলের প্রত্যন্ত বন্যা কবলিত গ্রামে প্রদীপ্ত বাগের বাড়ি। গ্রামের স্কুল থেকেই তাঁর পড়াশোনার শুরু। নন্দনপুর রূপচাঁদ একাডেমি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি আরামবাগের নেতাজি মহাবিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স সহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বন্যার সময় বছরে প্রায় দু’মাস এই এলাকায় রাস্তাঘাটের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রবল কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন প্রদীপ্ত। বন্যার মরশুম এলেই এলাকায় নৌকা মেরামতির কাজ শুরু হয়, প্রদীপ্তদের বাড়িতেও একটি নৌকা রয়েছে। পরিবারের দিক থেকে তাঁর বাবা প্রশান্ত বাগ একজন রেশন ডিলার, মা পৌলোমী বাগ গৃহবধূ। ভাই গুজরাটে গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও অ্যানিমেশন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ২০২০ সাল থেকে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন প্রদীপ্ত। কোনো রকম কোচিং না নিয়ে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। সাফল্যের আনন্দে ফল প্রকাশের পরের রাতে ঘুমই আসেনি তাঁর। ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় সারা পশ্চিমবঙ্গে তাঁর র্যাংক ১৭ এবং ডিএসপি পদে র্যাংক ৯। এই সাফল্যে মা-বাবা ও পরিবারের সকলেই তাঁর পাশে ছিলেন। পড়াশোনার সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রেখেছিলেন প্রদীপ্ত। নিয়ম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা না পড়লেও, আগের দিনই ঠিক করে নিতেন পরদিন কী পড়বেন। তাঁর মতে, গ্র্যাজুয়েশন স্তর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। প্রদীপ্তর মা পৌলোমী দেবী জানান, ছোট থেকেই তাঁর ছেলে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং সব সময় পড়াশোনায় মনোযোগী থাকত। সংসারের ছোট-বড় সব কাজেই সে পারদর্শী—সন্ধ্যে দেওয়া থেকে শুরু করে ঘরের নানা দায়িত্ব সে সামলাত। তাঁর একমাত্র ইচ্ছা ছিল ছেলে যেন বড় হয়ে সৎভাবে মানুষের জন্য কাজ করে।আমাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ছেলের এই সাফল্যে আবেগে চোখের জল চলে আসে মা পৌলোমী দেবী ও বাবা প্রশান্ত বাগের। প্রশান্তবাবু জানান, পড়াশোনার সময় তিনি কখনও ছেলেকে অপ্রয়োজনে বাধা দেননি, এমনকি নিজের ব্যবসায় বসতেও বলেননি। বরাবর একটাই কথা বলতেন—“মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠো।”



![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
বেহাল রাস্তা, দুর্ভোগ চরম! কালিপুর–দামোদরপুর পীচ রাস্তা পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে বালির নতুন বাজারে গণ কনভেনশন