—কৃষক সমিতির উদ্যোগে স্বাক্ষর সংগ্রহ, ডেপুটেশন ও নাছোড়বান্দা আন্দোলনের ডাক
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আরামবাগ মহকুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ কালিপুর থেকে দামোদরপুর পর্যন্ত পীচ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রতিদিন যাতায়াতে সমস্যা, বর্ষায় জল জমে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়া, ধুলো-বালির দাপটে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জরুরি পরিষেবার বাধাপ্রাপ্ত হওয়া—সব মিলিয়ে এলাকার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।
এই পরিস্থিতিতে রাস্তার পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বালি অঞ্চলের নতুন বাজারে এক গুরুত্বপূর্ণ গণ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। কনভেনশনটির আয়োজন করে গোঘাট থানা কৃষক সমিতির অধীন বালি অঞ্চল কৃষক সমিতি।
জনজীবনে প্রভাব: “রাস্তাটি সংস্কার না হলে উন্নয়ন থমকে যাবে”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিপুর–দামোদরপুর রাস্তাটি শুধুমাত্র একটি যাতায়াতের পথ নয়—এটি এলাকার চাষাবাদ, বাজার ব্যবস্থা, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায়:
- স্কুলপড়ুয়া ও চাকরিজীবীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে
- রোগী পরিবহণ ও অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে
- কৃষিপণ্য বাজারে আনতে বাড়তি খরচ ও সময় লাগছে
- দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে
- বর্ষাকালে রাস্তায় জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে
কনভেনশনে উপস্থিত সাধারণ মানুষের বক্তব্য, “রাস্তার এই দশা চলতে থাকলে এলাকার উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।”
এদিনের গণ কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন—
কালী দাস, আনন্দ সরেন, বিশ্বনাথ পাঁজা এবং শিবনারায়ণ কোঙার।
সভায় রাস্তার অবস্থা, প্রশাসনিক স্তরে দাবি জানানো এবং পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কনভেনশনে অমিত হাজরা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন—
স্বপন পাত্র, ভাস্কর রায়, স্বপন মণ্ডল এবং অভয় ঘোষ।
বক্তারা বলেন, “বারবার দাবি জানানো হলেও কাজ শুরু হয়নি। এবার সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তুলে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে হবে।”
আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংগ্রহ: প্রশাসনের কাছে জোরালো বার্তা
কনভেনশন চলাকালীন রাস্তা সংস্কারের দাবিতে প্রশাসনিক স্তরে জমা দেওয়ার জন্য আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
এই আবেদনপত্র পাঠানো হবে—
- হুগলি জেলার জেলাশাসক
- হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি
- গোঘাট-১ ব্লকের বিডিও
- গোঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, “মানুষের স্বাক্ষরই প্রমাণ করবে—এটা কোনও একক দাবি নয়, এটা জনদাবি।”
ডেপুটেশন ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত
কনভেনশন থেকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—
✅ এসডিও, বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে প্রতিনিধিত্বমূলক ডেপুটেশন দেওয়া হবে।
✅ দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে নাছোড়বান্দা আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
✅ এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করে বৃহত্তর গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সভাপতি মণ্ডলীর পক্ষ থেকে কালী দাস ও শিবনারায়ণ কোঙার বলেন,
“এই রাস্তা সংস্কার শুধু উন্নয়নের দাবি নয়—এটি মানুষের ন্যায্য অধিকার। দ্রুত কাজ শুরু না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।”
কনভেনশনে দীপক লাহা ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এলাকার বহু সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একযোগে সরব হন।
কালিপুর থেকে দামোদরপুর পর্যন্ত পীচ রাস্তা পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এই গণ কনভেনশন স্পষ্ট করে দিল—এটি এখন কেবল একটি রাস্তার সমস্যা নয়, বরং এলাকার জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি জরুরি জনদাবি। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে স্থানীয় মানুষ ও কৃষক সংগঠন।



![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত