সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে একটি যৌথ জাতীয় রোগ প্রতিরোধ দল (National Joint Rapid Response Team) পাঠিয়েছে।
বারাসত থেকেও নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মিলল। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই পুরুষ নার্সের দেহে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় জেলা জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই নার্সের কারও ভিন রাজ্যে যাওয়ার কোনও রেকর্ড নেই। তবে তাঁরা সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান জেলায় গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই সংক্রমণের সূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও সংক্রমণের সঠিক উৎস এখনও নিশ্চিত নয়।
জানা গিয়েছে, ওই দুই নার্স ৫ জানুয়ারি থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। পরে তাঁদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কল্যাণী এইমস-এ। সেখানকার পরীক্ষাতেই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তাৎক্ষণিকভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে অবহিত করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আক্রান্তদের নমুনা দিল্লিতে পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে, যাতে সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে। আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
আক্রান্ত দুই নার্স বর্তমানে যে বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত, সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল চত্বরে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সংক্রমণ রুখতে সমস্ত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসায় যাবতীয় সহায়তা করা হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা গতকাল ফোনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলেন। এই আলোচনায় রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপগুলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়।
কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠানো জাতীয় দলটি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করা, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ (contact tracing), নমুনা পরীক্ষা, আইসোলেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান খতিয়ে দেখা—সব দিকেই নজর দেবে এই দল।
এদিকে রাজ্য সরকারও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।

![]()

More Stories
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা
লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে SIR সংক্রান্ত দাবিপত্র বিজেপি বিধায়কদের