সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; মাঘ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার—বাঙালি হিন্দু সমাজে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনটি লক্ষ্মীপুজা হিসেবে পালিত হলেও গ্রামবাংলায় তা পরিচিত ‘ধান্যলক্ষ্মী’ বা ‘উঠান লক্ষ্মী’ পুজা নামে। নবান্ন পরবর্তী সময়ে নতুন ধান ঘরে ওঠার পর ঘরের শ্রীবৃদ্ধি ও সারা বছর অন্নাভাব দূর করার কামনায় মা লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠেন মানুষ। ভোর থেকেই গ্রামবাংলার বাড়িগুলিতে শুরু হয় পুজার প্রস্তুতি। উঠান বা আঙিনা ভালো করে পরিষ্কার করে গোবর বা জল দিয়ে লেপে দেওয়া হয়। তারপর চালগুঁড়োর পিটুলি দিয়ে আঁকা হয় বাহারি আলপনা—লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ, পদ্মফুল ও ধানের শিষের নকশা। বিশ্বাস, এই পায়ের ছাপ ধরেই মা লক্ষ্মী অলক্ষ্মী বিদায় করে সংসারে প্রবেশ করেন। পুজার উপাচারেও রয়েছে বিশেষত্ব। মাটির বা তামার ঘটের মধ্যে জল ভরে আম্রপল্লব ও সিঁদুরের পুতুল দিয়ে ঘট স্থাপন করা হয়। নতুন ধানের ছড়া দিয়ে সাজানো হয় দেবীকে। পৌষ মাসে ওঠা পৌষ দিয়েই এই পুজা সম্পন্ন করা হয়। কোথাও কোথাও প্রয়োজন হয় এঁড়ে গরুর গোবর ও মুলো গাছের ফুল। ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় খই, মুড়কি, বাতাসা, তিলুয়া ও মরসুমি ফল—বিশেষ করে কুল ও কলা। কিছু পরিবারে খিচুড়ি বা পায়েসও দেওয়া হয়। পুজার শেষে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করা এই ব্রতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই দিনে বহু মহিলা উপবাস রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করেন। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ-ধুনা ও আরতির মাধ্যমে পুজার সমাপ্তি ঘটে। কোনো কোনো বাড়িতে ছোট মাটির সরা বা লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে কড়ি রেখে পুজা করার রীতিও প্রচলিত। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক রীতি হলো লক্ষ্মী পেঁচার ডাক শোনা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পেঁচার ডাক না শোনা পর্যন্ত মা লক্ষ্মীকে ঘরে তোলা হয় না। পেঁচার ডাক শোনা মাত্রই শঙ্খ বাজিয়ে, জলের ঝরা হাতে নিয়ে পূজা মণ্ডপ পরিক্রমা করা হয়। তিনবার লক্ষ্মী পেঁচার ডাক শোনার পরেই মা লক্ষ্মীকে ঘরে তোলার প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও মাঘের প্রথম বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীপুজা আজও গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই পুজাকে কেন্দ্র করে এখনও ঘরে ঘরে ফিরে আসে ঐতিহ্য, ভক্তি আর লোকাচারের প্রাণবন্ত রূপ।


![]()

More Stories
পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি কি ‘নিখোঁজ’? রাজ্যসভায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ কেন্দ্রের
প্রকৃতি বন্দনার মহোৎসব: আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা পরব’
হাত ছেড়ে পদ্ম ধরলেন কলকাতার দাপুটে কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক, সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বড় ভাঙন কংগ্রেসে