রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি পেল ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প, বাংলার সুগন্ধি চালও আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল পশ্চিমবঙ্গের ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প। United Nations-এর খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Food and Agriculture Organization (FAO) এই পথিকৃৎ উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান স্বীকৃতির শংসাপত্র প্রদান করেছে।

রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ২০২০ সালে শুরু হওয়া ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের সাফল্যের ফলেই এই সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বহুমুখী প্রকল্পকে একটি অনন্য জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

প্রকল্পটির মাধ্যমে জমি, সেচ ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে একসূত্রে গেঁথে পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ ও অনুর্বর একফসলি জমিকে উর্বর ও বহুফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে এই জমিতে সারা বছর চাষের পাশাপাশি শাকসবজি ও ফল উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। পুকুর খনন এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ফলে জলসংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এর জেরে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং গ্রামীণ পরিবারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এছাড়াও FAO বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল— গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচুর—কে আন্তর্জাতিক ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই সার্টিফিকেট বাংলার কৃষি ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিল।

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং খাদ্য সংস্কৃতির সুরক্ষায় এই আন্তর্জাতিক সম্মানকে বাংলার মানুষের সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গৌরব উৎসর্গ করা হয়েছে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ ও কৃষক সমাজকে, যাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই প্রকল্পটির সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

Loading