February 17, 2026

মস: ছোট্ট উদ্ভিদ, বড় উপকার — শহুরে সবুজায়নের নীরব নায়ক

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃপ্রকৃতির কোলে নীরবে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র এক উদ্ভিদ—মস (Moss)—আজ পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে তার আশ্চর্য গুণাবলির জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির মস গাছের তুলনায় প্রতি বর্গমিটারে চার গুণ বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) শোষণ করতে সক্ষম। এই অসাধারণ দক্ষতা এসেছে এর সহজ গঠন ও কার্যকর ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়া থেকে।

অল্প আলোতেও ফটোসিনথেসিস চালিয়ে যেতে পারার ক্ষমতা মসকে করেছে আলাদা। যেখানে অধিকাংশ গাছ সূর্যালোকের অভাবে টিকে থাকতে পারে না, সেখানে মস তার সবুজ চাদর বিছিয়ে রাখে দৃঢ়ভাবে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, মস মাটির প্রয়োজন ছাড়াই বেড়ে উঠতে পারে। বাতাস ও বৃষ্টির জল থেকেই এটি পুষ্টি সংগ্রহ করে। শহুরে কংক্রিটের জঙ্গলে ছাদ, দেওয়াল কিংবা ছায়াযুক্ত কোণায় সহজেই বেড়ে ওঠে। তাই মস এখন আধুনিক শহরগুলির “নতুন প্রাকৃতিক স্থপতি” হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস শহরের তাপমাত্রা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘ইভাপোট্রান্সপিরেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি বাতাসে আর্দ্রতা ছাড়ে এবং দেয়াল ও ছাদে প্রাকৃতিক তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। ফলে শহরের অতিরিক্ত উষ্ণতা কমে ও ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব হ্রাস পায়।

এছাড়াও, মস বাতাস থেকে ধূলিকণা ও দূষণ শোষণ করে পরিবেশকে রাখে আরও পরিষ্কার। এটি খুব কম রক্ষণাবেক্ষণেই টিকে থাকতে পারে এবং নানা ক্ষুদ্র প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে।

যদিও মস গাছের পূর্ণ বিকল্প নয়, তবে এটি নিঃসন্দেহে এক কার্যকর পরিপূরক—যে পারে শহুরে জীবনে সবুজের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে।

ভবিষ্যতের শহর যখন টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে, তখন মস হতে পারে তার সবচেয়ে ক্ষুদ্র কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর সহযাত্রী। 🌿

Loading