সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বর্ডার সিনেমায় যখন ভেসে উঠেছিল সেই অমর গান — সন্দেশে আতি হে — তখন গোটা দেশ যেন একসঙ্গে কেঁদেছিল। সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৈনিকের চোখ দিয়ে আমরা দেখেছিলাম অপেক্ষা, ভালোবাসা আর চিঠির জন্য ব্যাকুলতা। “সন্দেশে আসে…”—এই শব্দগুলো শুধু গানের লাইন নয়, এগুলো এক একজন জওয়ানের হৃদস্পন্দন। আজ সেই আবেগকেই বাস্তবের মাটিতে ছুঁয়ে যায় সেনা ডাক সেবা দিবস —ভারতীয় সেনাদের জন্য বিশেষ ডাক ব্যবস্থার দিন। দেশের সীমানা পাহারা দিতে গিয়ে যখন একজন সৈনিক হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে, তুষারঢাকা পাহাড়ে কিংবা উত্তপ্ত মরুভূমিতে প্রহর গুনছেন, তখন তাঁর কাছে পরিবারের একটি চিঠি মানে শুধু কাগজের টুকরো নয়—এটি বাড়ির গন্ধ, মায়ের আশীর্বাদ, সন্তানের হাসি, স্ত্রীর অপেক্ষা আর গ্রামের মাটির টান।ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিজস্ব ডাক পরিষেবার সেই আবেগের সেতুবন্ধন। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ শাখা আজও সীমান্তের প্রত্যন্ত পোস্টে, যুদ্ধক্ষেত্রে কিংবা শান্তিকালীন দায়িত্বে—প্রতিটি জায়গায় পৌঁছে দেয় খবর, ভালোবাসা আর প্রয়োজনীয় সরকারি যোগাযোগ। শুধু পারিবারিক চিঠিই নয়, সেনা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্দেশ, তথ্য—সবই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে যায়। একটি চিঠি হাতে পাওয়ার পর একজন জওয়ানের চোখে যে ঝিলিক দেখা যায়, তা কোনো পদক বা সম্মানের চেয়ে কম নয়। কারণ সেই চিঠি তাঁকে মনে করিয়ে দেয়—তিনি একা নন, তাঁর পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি দেশ। আজ সেনা ডাক দিবসে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই সেই অদৃশ্য নায়কদের—ডাকবাহক ও কর্মীদের—যাঁরা প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পথ উপেক্ষা করে পৌঁছে দেন আবেগের বার্তা। তাঁদের জন্যই সীমান্ত আর ঘরের দূরত্ব কিছুটা হলেও কমে আসে। কুর্নিশ সেই সকল জওয়ানদের,কুর্নিশ সেই সেনা ডাক ব্যবস্থাকে,যারা “সন্দেশে আসে…”—এই কথাটাকে আজও জীবন্ত রাখে। ‘সেনা ডাক সেবা’র ৫৫তম কর্পস ডে উপলক্ষে সকল পদমর্যাদার কর্মী, প্রাক্তন সেনাকর্মী ও তাঁদের পরিবারকে শুভেচ্ছা জানালেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বস্তরের জওয়ান ও আধিকারিকদের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়েছে।
সেনা ডাক সেবা দেশের বিভিন্ন দুর্গম ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কর্মরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের যোগাযোগ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও এই পরিষেবা সেনা সদস্যদের মনোবল বজায় রাখতে বিশেষ সহায়ক বলে মনে করা হয়।
৫৫সেনা ডাক সেবা দিবস উপলক্ষে বাহিনীর অবদান ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে সেনাপ্রধান তাঁদের ভবিষ্যতের সাফল্য কামনা করেন।


![]()

More Stories
লখনউ ডিভিশনে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথে বসছে কবচ ৪.০
মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছল ৪০ লক্ষ লিটারের বেশি ডিজেল
EPFO-র আওতায় আসার বেতনসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার, উপকৃত হবেন ৫১ লক্ষের বেশি কর্মী