সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও তার বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য প্রেরিত নাসার মহাকাশযান MAVEN-এর মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করা হয়েছে। টানা ছয় মাস কোনো সংকেত না পাওয়ার পর নাসার বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, মহাকাশযানটিকে আর সচল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
২০১৩ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় ম্যাভেনকে। ২০১৪ সালে এটি মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে এবং মূলত মঙ্গলের উপরের বায়ুমণ্ডল, আয়নমণ্ডল ও সৌরবায়ুর প্রভাবে বায়ুমণ্ডল কীভাবে মহাশূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে গবেষণা চালায়। মাত্র এক বছরের জন্য পরিকল্পিত এই মিশন ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে কাজ করেছে।
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলগ্রহের আড়ালে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই ম্যাভেনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাকাশযানটি অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ঘুরতে শুরু করেছিল, যার ফলে এর কক্ষপথে পরিবর্তন ঘটে এবং ব্যাটারির শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে।
নাসার গঠিত বিশেষ পর্যালোচনা বোর্ড দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানোর পর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ম্যাভেন আর কার্যক্ষম অবস্থায় ফিরবে না। তবে এটি আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর মঙ্গলের কক্ষপথেই ঘুরতে থাকবে এবং অন্য কোনো মহাকাশযানের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে না।
বিজ্ঞানীদের মতে, ম্যাভেন মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে মানবজাতির জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। এর তথ্য থেকে জানা গেছে, কীভাবে সৌরবায়ুর প্রভাবে কোটি কোটি বছর ধরে মঙ্গল তার ঘন বায়ুমণ্ডলের বড় অংশ হারিয়েছে এবং একসময়ের সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ আজ শুষ্ক ও ঠান্ডা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও এটি মঙ্গলে অরোরার পর্যবেক্ষণ এবং নাসার রোভার Curiosity ও Perseverance-এর সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

![]()

More Stories
শুধু বায়োমেট্রিক হাজিরা নয়, প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় ঘিরে বিতর্ক, রিপোর্ট তলব বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার
অপারেশন সিন্দুরের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর