যুদ্ধের উত্তাপ ছুঁলো বিশ্ব তেলবাজার

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক—এই তিনের মিলিত প্রভাবেই হু হু করে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

বিশ্ব বাজারে দু’টি প্রধান বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল—ব্রেন্ট ক্রুডনিমেক্স (NYMEX) লাইট সুইট ক্রুড—উভয়ের দামই ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

  • আজ বাজার খোলার সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল পিছু ৭৯.৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছয়।
  • অন্যদিকে, নিমেক্স লাইট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল পিছু ৭২.৭০ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ে এই মাত্রার দামবৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিরল।

পশ্চিম এশিয়া বিশ্ব তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এই অঞ্চলের দেশগুলি থেকে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়। যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে—

  • তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও রিফাইনারিগুলিতে হামলার আশঙ্কা বাড়ে
  • গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়
  • বীমা খরচ ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যায়

এই সব কারণেই বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় আগাম দাম বাড়তে শুরু করে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে—

  • পেট্রোল ও ডিজেলের দামে
  • পরিবহণ খরচে
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামালের খরচে
  • সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতিতে

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দাম এই উচ্চ স্তরে কিছুদিন স্থির থাকে, তাহলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর জ্বালানি দামের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব বাজারের নজর এখন পুরোপুরি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে। কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমিত হলে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বা নতুন দেশ জড়িয়ে পড়লে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক সংকট নয়—তা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Loading