ধর্ম পরিবর্তন করলেই হারাতে হবে তফসিলি জাতির মর্যাদা, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে শোরগোল দেশজুড়ে

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ধর্মান্তকরণ এবং তফসিলি জাতির (SC) সামাজিক মর্যাদা নিয়ে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর তফসিলি জাতি হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। আদালত তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামো অনুসারে তফসিলি জাতির মর্যাদা কেবলমাত্র ওই তিনটি বিশেষ ধর্মালম্বীদের জন্যই সংরক্ষিত। এই রায়ের ফলে এখন থেকে খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী দলিত ব্যক্তিরা তফশিলি জাতির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণ বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের দাবিদার হতে পারবেন না। তবে রায়ের সবথেকে চর্চিত বিষয়টি হলো আইনি সুরক্ষা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তিনি আর ‘এসসি-এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন’-এর অধীনে বিশেষ সুরক্ষা দাবি করতে পারবেন না। অর্থাৎ, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর ওপর কোনো জাতিগত বৈষম্য বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এই বিশেষ আইনে মামলা করা সম্ভব হবে না। আদালতের এই রায়ের সারমর্ম হলো—তফসিলি জাতির সংজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে ধর্মতাত্ত্বিক ও সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্মের পরিমণ্ডলে থাকলেই একজন ব্যক্তি এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। এই নির্দেশের ফলে দেশজুড়ে দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের আইনি ও সামাজিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিশেষ করে যারা ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অন্য কোনো কারণে ধর্ম পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণ ও আইনি অধিকার বজায় রাখার বিষয়টি এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।

Loading