বেড়ি হনুমান মন্দির: ভক্তি, বন্ধন ও বিশ্বাসের অনন্য গাথা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ হনুমান—শক্তি, ভক্তি ও চঞ্চলতার এক অপূর্ব প্রতীক। ছোটদের দুষ্টুমি বোঝাতে মায়েরা আজও বলেন, “দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখব”—এই কথার পেছনেও যেন লুকিয়ে আছে তাঁরই চঞ্চল স্বভাবের ছাপ।

পুরীর বেড়ি হনুমান মন্দির ঘিরে প্রচলিত আছে এক গভীর পৌরাণিক কাহিনি। যখন জগন্নাথ-এর আবির্ভাব হয় শ্রীক্ষেত্রে, তখন দেবদেবীরা তাঁকে দর্শন করতে আসতেন। সেই দেখে সমুদ্রদেবও দর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ঢেউ মন্দিরের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সমস্যা সমাধানে প্রভু জগন্নাথ তাঁর পরম ভক্ত হনুমানকে সমুদ্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেন। কিন্তু স্বভাবতই চঞ্চল হনুমান কখনো রামনাম সংকীর্তনে, কখনো অযোধ্যায় ভোগের টানে নিজের স্থান ছেড়ে চলে যেতেন। ফলে সমুদ্র আবার উত্তাল হয়ে মন্দিরের ক্ষতি করত।

অবশেষে প্রভু সিদ্ধান্ত নেন হনুমানকে সোনার শিকলে বেঁধে রাখার। আশ্চর্যজনকভাবে, যাকে কোনোদিন কেউ বেঁধে রাখতে পারেনি, সেই হনুমান স্বেচ্ছায় এই বন্ধন মেনে নেন তাঁর প্রভুর আদেশে। সেই থেকেই এই মন্দিরের নাম—‘বেড়ি হনুমান মন্দির’।

আজও বিশ্বাস করা হয়, তিনি সেখানে শিকলবদ্ধ অবস্থায় সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, যাতে জগন্নাথ মন্দির সুরক্ষিত থাকে।

অনেকের মতে, এটি প্রাচীনকালে সমুদ্রের প্রভাব থেকে রক্ষার প্রতীকী এক ধর্মীয় ব্যবস্থা হতে পারে। তবে এর পৌরাণিক গুরুত্ব ও ভক্তিভাব অটুট—ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ এই ধরনের গাথা।

আজ হনুমান জয়ন্তী-র দিনে এই কাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যিকারের ভক্তি মানে সম্পূর্ণ সমর্পণ। যেমন হনুমান নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন রাম-এর কাছে।

Loading