সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে কড়া তদন্ত, বুধবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা-সহ একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্য সরকার কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বহু ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি ভাতা গ্রহণের ঘটনা ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেফতারিও হয়েছে বলে তিনি জানান। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি ছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত প্রাপকদের পরিবর্তে বহু অযোগ্য ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কোথাও মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের সুবিধা পুরুষদের নামে গিয়েছে, আবার কোথাও ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক ভাতা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অনিয়মের তথ্য উঠে আসছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা গ্রহণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও ইমাম ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাই তথ্য যাচাই ও উপভোক্তাদের পুনর্মূল্যায়নের কাজ জোরদার করা হয়েছে। যেখানেই অনিয়ম প্রমাণিত হবে, সেখানে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অগ্রগতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্তকরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। যাঁরা নিজেরা আবেদনপত্র পূরণ করতে পারছেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মীরা আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বুধবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ের অর্থ স্থানান্তর শুরু হবে। প্রথম কিস্তিতে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হবে। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ আবেদন যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুততার সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সরকারের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে প্রকৃত প্রাপকরাই সরকারি সুবিধা পান।

Loading