বর্তমান সময়ে অনেক কিশোর-কিশোরীর বিপথে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো অল্প বয়সেই “পার্সোনাল রুম” সংস্কৃতি !

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ একটা সময় ছিল, যখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকত। সন্তান কখন পড়ছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, কী দেখছে—এসব বিষয় অন্তত কিছুটা হলেও বাবা-মায়ের নজরে থাকত। এখন আধুনিকতার নামে অনেক পরিবার ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে আলাদা ঘর, ব্যক্তিগত মোবাইল, ল্যাপটপ এবং সীমাহীন ইন্টারনেট দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে যদি দায়িত্ববোধ এবং পর্যবেক্ষণ না থাকে, তাহলে সেই স্বাধীনতাই অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একটি বন্ধ দরজার আড়ালে একজন কিশোর বা কিশোরী ঘণ্টার পর ঘণ্টা কী করছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, কী ধরনের ভিডিও দেখছে বা কোন চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে—এসব বিষয়ে অধিকাংশ অভিভাবকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম খুব দ্রুত একজন শিশুকে এমন এক জগতে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কল্পনা, আবেগ এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়।

আজ অনেক বাবা-মা মনে করেন, সন্তানের আলাদা রুম মানেই আধুনিকতা, আর ব্যক্তিগত মোবাইল মানেই প্রয়োজন। কিন্তু তারা অনেক সময় ভুলে যান, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন স্বাধীনতা নয়, সঠিক দিকনির্দেশনা। কারণ এই বয়সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপক্বতা এখনও তৈরি হয় না।

“পার্সোনাল রুম” তখনই সমস্যা হয়ে ওঠে, যখন সেই রুম পরিবারের কাছ থেকে সন্তানকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। দরজা বন্ধ, হেডফোন কানে, হাতে মোবাইল—ঘরের ভেতরে কী চলছে, তা কেউ জানে না। ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনেক সময় অনলাইন বন্ধুত্ব, তারকাপূজা বা অবাস্তব স্বপ্ন তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ছোটবেলায় সন্তানকে আলাদা রুম দেওয়ার আগে হাজারবার ভাবা উচিত। তার চেয়েও বেশি জরুরি হলো মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ম তৈরি করা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা। সন্তানকে শুধু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে সময় দেওয়া, মূল্যবোধ শেখানো এবং তার বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপের পাশে থাকা একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সমাজের অবক্ষয় একদিনে হয় না। ছোট ছোট অবহেলা, অযাচিত স্বাধীনতা এবং পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব—এসবই ধীরে ধীরে বড় সমস্যার জন্ম দেয়। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। সন্তানকে শুধু একটি “পার্সোনাল রুম” নয়, একটি নিরাপদ পরিবারও দিতে হবে।

Loading