সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: জামাইষষ্ঠী হল বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও ধর্মীয় উৎসব, যা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালন করা হয়। এই দিনটি মূলত সন্তানদের মঙ্গলকামনা ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে মা ষষ্ঠীর পূজার সঙ্গে যুক্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধর্মীয় আচারের সঙ্গে জামাইকে সম্মান ও আপ্যায়নের প্রথা যুক্ত হয়েছে এবং তা আজ এক বিশেষ সামাজিক উৎসবের রূপ নিয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা ষষ্ঠী হলেন সন্তানদের রক্ষাকর্ত্রী দেবী। পুরাণ ও লোকবিশ্বাসে তাঁকে উর্বরতা, সন্তানলাভ এবং সন্তানের দীর্ঘায়ুর দেবী হিসেবে মান্য করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই সন্তানদের কল্যাণ ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় মায়েরা ষষ্ঠী ব্রত পালন করে আসছেন। জামাইষষ্ঠীর দিন শাশুড়িরা মা ষষ্ঠীর পূজা করেন এবং জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে নানা উপাচারে বরণ করেন। ফল, মিষ্টি, নতুন পোশাক ও বিভিন্ন পদের ভোজের মাধ্যমে জামাইকে সম্মান জানানোর রীতি বহুদিনের। লোকসংস্কৃতি গবেষকদের মতে, জামাইষষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য কেবল জামাইকে খাওয়ানো নয়; এর মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। বিবাহের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে মজবুত করা এবং পারিবারিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার সামাজিক তাৎপর্যও এই উৎসবের সঙ্গে জড়িত। আধুনিক যুগে জামাইষষ্ঠী ধর্মীয় আচার ও পারিবারিক আনন্দ-উৎসবের এক সুন্দর সমন্বয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বিভিন্ন অঞ্চলে আচার-অনুষ্ঠানের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়, তবুও মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে পরিবারের সুখ, শান্তি ও সন্তানের মঙ্গল কামনাই এই উৎসবের মূল ভিত্তি। তাই বাঙালির ঘরোয়া সংস্কৃতিতে জামাইষষ্ঠী শুধুমাত্র একটি খাদ্য-উৎসব নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্য, স্নেহ ও সামাজিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

![]()

More Stories
জ্যৈষ্ঠ মাসে মা মঙ্গলচণ্ডীর ব্রতকে ঘিরে ভক্তি ও ঐতিহ্যের মিলন, ভালিয়ার রঘুনাথ মন্দিরে মহিলাদের সমবেত পুজো
মেলা ও পার্লারের সস্তা ট্যাটু ,পিয়ার্সিং গান ফোঁড়াই ডেকে আনছে ভয়াবহ বিপদ
মহৌষধ—কচি নিম পাতা আর সজনে ডাটা শাক ফুলে প্রকৃতির নিরাময়