‘বর্তমানে তৃণমূলের অস্তিত্ব নেই, অভিষেকই ভরাডুবির ১০০ শতাংশ দায়ী, বিজেপি যদি ডাকে পা বাড়াতে দ্বিধা করব না’— বিস্ফোরক গোঘাটের বর্ষীয়ান নেতা মনোরঞ্জন পাল

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: গোঘাটের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন পালের একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থা, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আমাদের কাছে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল নাকি কালীঘাটের তৃণমূল— কোন শিবিরে তিনি রয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে মনোরঞ্জন পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বর্তমানে তৃণমূলের কোনো অস্তিত্ব নেই। তৃণমূল করার মানসিকতাও আর আমার নেই। ঋতব্রত আবার তৃণমূল নাকি? আমি তা মনে করি না।”

দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে তিনি বলেন, “দলের ভরাডুবি এবং আজকের এই পরিণতির জন্য ১০০ শতাংশ দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন অভিষেককে ছেড়ে নিজে দলের হাল ধরতে না পারবেন, ততদিন তৃণমূল করার কোনো মানসিকতা আমার নেই।”

তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস এবং তৃণমূল— উভয় পক্ষ থেকেই তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর কথায়, বর্তমানে গোঘাটে তৃণমূলের কোনো কার্যকর সাংগঠনিক ভিত্তিই নেই।

সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসা ও ‘ডিম থেরাপি’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে কোনো আক্রমণ বা হেনস্থার মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়নি। তাঁর বক্তব্য, এলাকার মানুষ তাঁকে দীর্ঘদিনের কাজের জন্য সম্মান করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী পিতার আদর্শ ও আশীর্বাদেই আজও তিনি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করে চলেছেন।

বর্তমান সরকারকে প্রশংসা করে মনোরঞ্জন পাল বলেন, নতুন সরকার যে সব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে, তা তাঁকে আশাবাদী করেছে। বিশেষ করে কামারপুকুরকে পৌরসভা এবং আরামবাগকে জেলা ঘোষণার সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত খুশি। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলেও জানান। ঘোষণা হওয়ার দিনই গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার, বিভিন্ন সংগঠন এবং আরামবাগ জেলা প্রেস ক্লাবকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পেরও প্রশংসা করেন তিনি। অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “গ্রামের সমস্ত মহিলারা যদি এই সুবিধা পান এবং তাঁদের হাতে অর্থ পৌঁছয়, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।”

নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে তিনি বলেন, বহুদিন একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন শুভেন্দু অধিকারীর কাজ করার মানসিকতা রয়েছে। তবে তাঁর সরকার কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মনোরঞ্জন পাল বলেন, “আমি গোঘাটে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা। আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর। আমার নিজস্ব কোনো সত্তা নেই। গ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে যে রাজনৈতিক দল আমাকে ডাকবে এবং আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইবে, আমি সেখানে যেতে প্রস্তুত। গোঘাটের বিজেপি যদি আমাকে আহ্বান জানায়, সেখানেও পা বাড়াতে আমার দ্বিধা থাকবে না।”

তবে তৃণমূলের রাজ্যসভার এক প্রাক্তন সাংসদের পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ার ঘটনাকে তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেন না।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথাও শোনান বর্ষীয়ান এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সৎ, বলিষ্ঠ এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে যদি দল পুনর্গঠন করা যায়, তাহলে আগামী দিনে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখনও রয়েছে।”

মনোরঞ্জন পালের এই ধারাবাহিক মন্তব্য ঘিরে গোঘাট থেকে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। যদিও আরামবাগের বিজেপি জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা জানিয়েছেন মনোরঞ্জন পাল বাঁচার জন্য বিজেপিতে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তিনি শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরে যোগ দেন, সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Loading