তারকেশ্বরে জনসমুদ্র, ৭০ পেরোনো মায়া দেবীর পদচারণায় ধরা পড়ল আশার গল্প

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: প্রখর রোদ, অসহনীয় গরম, তবু যেন উচ্ছ্বাসে ভাটা নেই। তারকেশ্বর স্টেশন থেকে সভাস্থলের দূরত্ব প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। সেই পথই ধীরে ধীরে হেঁটে অতিক্রম করছেন প্রায় সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। তাঁর নাম মায়া ত্রিবেদী। বাড়ি চন্দননগরে। কংগ্রেস থেকে একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের কাজ, প্রশাসনিক পদ্ধতি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের পরিবর্তনের দাবিতে তিনি আজ নিজেকে নতুন এক রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। আর সেই বিশ্বাস থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একবার চোখের দেখা দেখার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে টেনে এনেছে তারকেশ্বরের মাটিতে। আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বর যেন এক অন্য আবহে সেজে উঠেছে। এখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা ও উন্নয়নের হিসাব তুলে ধরা হবে। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরে, এই জনসমাগম যেন আরও বড় এক সামাজিক বার্তা বহন করছে। বয়সকে উপেক্ষা করে বহু প্রবীণ মানুষ এসেছেন। কেউ হেঁটে, কেউ লাঠির ভরসায়, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে পৌঁছে গিয়েছেন সভাস্থলে। বহু পরিবার শিশুদের নিয়ে হাজির হয়েছে। মহিলাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মহিলার অংশগ্রহণ। নানা বিভাজন, নানা রাজনৈতিক বিতর্ককে দূরে সরিয়ে রেখে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। মায়া ত্রিবেদীর চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে উজ্জ্বল ছিল প্রত্যাশার আলো। তাঁর কথায়, “জীবনের অনেক কিছু দেখেছি। এখন মনে হচ্ছে পরিবর্তনের যে কথা শুনছি, তা নিজের চোখে দেখতে চাই। তাই এই বয়সেও চলে এসেছি।” তারকেশ্বরের পথে পথে আজ যেন উৎসবের আবহ। কেউ হাতে জাতীয় পতাকা, কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত। প্রবীণ থেকে যুবক, নারী থেকে শিশু, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ যেন এক মিলনমেলার চেহারা নিয়েছে। অনেকের মুখেই শোনা গেল, দীর্ঘদিনের দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা যেন নতুন করে খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বাইরেও তারকেশ্বরের এই দৃশ্য এক অন্য বার্তা বহন করছে—মানুষের আশা, প্রত্যাশা এবং অংশগ্রহণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রাণ। প্রখর রোদ্দুরকে উপেক্ষা করে, বয়সের বাধাকে অতিক্রম করে, নানা পরিচয়ের মানুষ আজ এক জায়গায় মিলিত হয়েছেন। আর সেই মিলনেই যেন ধরা পড়েছে আগামী দিনের স্বপ্ন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং এক নতুন সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

Loading