সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ্যভাতা (ডিএ) মেটানোর দাবিতে গত ১৩ই মার্চ যে বন্ধ পালন করা হয়েছিল, সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই নির্দেশ রাজ্যের হাজার হাজার কর্মচারীর কাছে স্বস্তির বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে।
সূত্রের খবর, বন্ধে অংশগ্রহণের জেরে বহু কর্মীর বেতন কাটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি প্রশাসনিক স্তরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি অমৃতা সিন্হার বেঞ্চে।
শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বন্ধে অংশগ্রহণের কারণে কোনও কর্মীর বেতন কাটা বা তাঁদের বিরুদ্ধে অন্য কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই মামলায় জড়িত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের লিখিত বক্তব্য পেশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিএ পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সেই দাবিতেই গত ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যাতে বহু কর্মচারী অংশ নেন। এর জেরে প্রশাসনের সঙ্গে কর্মীদের টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে এটি কর্মীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষা দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কঠোরতার ওপরও একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
তবে মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও বাকি। আগামী ৬ সপ্তাহ পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শুনে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি কর্মচারী মহলেও নজর এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

![]()

More Stories
আদর্শের কাছে প্রাপ্তি তুচ্ছ: পেনশন নিলেন না কমরেড বিকাশরঞ্জন
নববর্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, মোহর কুঞ্জে সংস্কৃতির আবাহন
“নিরপেক্ষ ভোটে জোর, কমিশনের কড়া নির্দেশ—শুরু ভোটার স্লিপ বিতরণ”