সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: প্রখর গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী, কিন্তু তার মাঝেই দেশজুড়ে নির্বাচনী ব্যস্ততা যেন সমস্ত অন্য বিষয়কে আড়াল করে দিয়েছে। প্রার্থী থেকে প্রশাসনিক আধিকারিক, এমনকি সাধারণ মানুষ—সবার মনোযোগ এখন ভোটকেন্দ্রিক। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ নিয়ে ভাবার সময় বা উদ্যোগ, দুই-ই যেন অনুপস্থিত।
তবে নির্বাচনের আবহে হঠাৎ করেই সামনে এসেছে একটি পুরনো সমস্যা—গাছে পেরেক পুঁতে দলীয় পতাকা বা ব্যানার লাগানো। পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ এ নিয়ে সরব হলেও, প্রশ্ন উঠছে—এই প্রতিবাদ এতদিন কোথায় ছিল? কারণ, বহুদিন ধরেই বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একইভাবে গাছে পেরেক মেরে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছে পেরেক পোঁতা শুধু একটি সামান্য ক্ষতি নয়, বরং তা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে গাছের ক্ষতি করে। ফলে পরিবেশের উপর এর প্রভাবও অনস্বীকার্য।
এই প্রেক্ষিতে বনদপ্তর এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচনী সময়ে বিশেষ নজরদারি রাখা কি উচিত নয়—এই প্রশ্নই তুলছেন সচেতন মহল।
আরও এক গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণ প্রায় অনুপস্থিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরিবেশ দূষণ রোধ, সবুজায়ন বৃদ্ধি বা টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা খুব কমই দেখা যায়।
এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিবেশবিদ্যার বিশিষ্ট অধ্যাপক ডক্টর সন্দীপন পাল বলেন, “পরিবেশ কোনো আলাদা বিষয় নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার ভিত্তি। নির্বাচন বা উন্নয়নের প্রতিটি পরিকল্পনার মধ্যেই পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গাছের ক্ষতি করে উন্নয়ন সম্ভব নয়।” উনার বক্তব্য শুনতে লক্ষ্য রাখুন আমাদের চ্যানেল।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের কোলাহলের মাঝেও পরিবেশের এই নীরব সংকট যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলি এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



![]()

More Stories
মস: ছোট্ট উদ্ভিদ, বড় উপকার — শহুরে সবুজায়নের নীরব নায়ক
গাছের ক্যান্সার আসলে কী ?
পুরুলিয়ার হুড়া এলাকায় আহত পূর্ণবয়স্ক হরিণ উদ্ধার, বনদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু