সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রথযাত্রার আনন্দের পর আজ পালিত হচ্ছে উল্টো রথযাত্রা বা বাহুড়া যাত্রা। এই দিনেই শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবী মাসির বাড়ি থেকে নিজ গৃহে, অর্থাৎ নীলাচল বা মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।
রথযাত্রার দিন ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে রথে চড়িয়ে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর উল্টো রথের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাবর্তন ঘটে। এই প্রত্যাবর্তনকেই বলা হয় বাহুড়া যাত্রা বা উল্টো রথ।
কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে আজ সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাহেশ, ইসকন, কলকাতার বিভিন্ন মন্দির এবং জেলার বহু প্রাচীন রথতলায় বিশেষ পূজা, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। বহু জায়গায় ভক্তরা আবারও রথের দড়ি টেনে পুণ্যলাভের আশায় সামিল হচ্ছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তিভরে উল্টো রথের দর্শন ও রথের দড়ি টানলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। তাই রথযাত্রার মতোই উল্টো রথের দিনেও মানুষের উৎসাহ থাকে চোখে পড়ার মতো।
পুরীর শ্রীমন্দিরেও আজ বাহুড়া যাত্রাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্টো রথের পর নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান মেনে পালিত হবে সুনা বেশ, অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজে, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এবারের রথযাত্রা উৎসব।
ভক্তদের বিশ্বাস, জগন্নাথদেবের এই প্রত্যাবর্তন শুধু দেবমূর্তির গৃহে ফেরা নয়, বরং মানুষের জীবনে শুভ শক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাবর্তনেরও প্রতীক। তাই ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহে আজও উল্টো রথযাত্রা সমান গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে।

![]()

More Stories
পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, দিল্লিতে গঠিত বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দ্রুত চার্জশিট দেবে সিবিআই, দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর
ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতীক তেরঙা: আজ জাতীয় পতাকার জন্মদিবসে শ্রদ্ধা, গর্ব ও অঙ্গীকার