স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা? কলকাতা২৪x৭-এর সম্পাদককে কোটি টাকার প্রলোভন, শর্ত ছিল রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচার!

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে কি অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে? একটি বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের দাবি ঘিরে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

বাংলার অন্যতম প্রাচীন স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম কলকাতা২৪x৭-এর সম্পাদক রানা দাস জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি অজ্ঞাত সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিজেদের পরিচয় দিয়ে তারা দাবি করে, তারা স্বাধীন ডিজিটাল মিডিয়াকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং ইতিমধ্যে বহু সংবাদমাধ্যমকে সহায়তা করেছে।

রানা দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাঁকে একটি ই-মেল পাঠানো হয়, যেখানে একটি জুম মিটিংয়ের আমন্ত্রণও ছিল। ই-মেলের ভাষায় দাবি করা হয়, তারা বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক একটি সংস্থা এবং “ডিজিটাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া”-কে সমর্থন করে। সেই ই-মেলের স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে।

কিন্তু আসল বিস্ময়কর অংশটি আসে পরবর্তী কথোপকথনে।

রানা দাসের দাবি, জুম বৈঠকের আগে বা আলোচনার সময় তাঁকে জানানো হয়, কলকাতা২৪x৭-কে এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে খবর ও পোস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট বর্তমান প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানাতে হবে।

যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা কেবল একটি সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর অর্থের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে

এই সংস্থা আসলে কারা? ডিপস্টেট?

তাদের অর্থের উৎস কী?

তারা ঠিক কতগুলি সংবাদমাধ্যমকে অর্থ দিয়েছে বলে দাবি করছে?

কোনও বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে কি?

নাকি এটি শুধুই প্রতারণার একটি নতুন কৌশল?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি।

ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সংকটগুলির একটি হলো অর্থনৈতিক টিকে থাকা। বিজ্ঞাপনের বাজার ছোট হচ্ছে, সাবস্ক্রিপশন মডেল এখনও সীমিত। এই পরিস্থিতিতে অনেক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আর্থিক সহায়তা খোঁজে। সেই সুযোগেই যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা সংবাদ পরিবেশনের শর্ত নির্ধারণ করতে চায়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক নজির। রানা দাস দাবি করেছেন, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদি সত্যিই কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক অর্থের বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করার চেষ্টা করে থাকে, তবে সেটি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে, যদি এটি কোনও প্রতারণা বা ভুয়ো সংগঠনের ফাঁদ হয়, তাহলেও সেটি প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন যাতে অন্য সংবাদমাধ্যম সতর্ক থাকতে পারে।

Loading