আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কড়া পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকার জানিয়েছে, দুর্নীতি, তোলাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো কোনও অনিয়ম কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমান জেলার রামপুর চেকপোস্টে একটি পণ্যবাহী ট্রাক (নং JH09BA3535) অবৈধভাবে আটকানো, চালকের ওপর ঘুষের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক বিলুপ্ত একটি করের নামে বেআইনিভাবে ২২ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবহণ দপ্তর দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এই ঘটনায় রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর, নাজিমুল হক ও অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৭১-এর বিধি ৭(১)(ক) অনুযায়ী অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যায়ভাবে আটক করা যানবাহন দ্রুত মুক্ত করার পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দুর্নীতি, তোলাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের দাবি, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ধরনের অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Loading