সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাজ্যে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ নতুন গতি পেলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন আগে বহু এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজ সম্পন্ন হলেও জল সরবরাহ শুরু হয়নি। বর্তমানে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ শুরু হতেই একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি সামনে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন জল অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আগের পর্যায়ে পাইপলাইন বসানোর সময় কাজের মান সর্বত্র সমান ছিল না। বহু জায়গায় জল সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই পাইপলাইন ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। জল চালু হতেই বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে থাকা পাইপ ফেটে জল উপরে উঠে আসছে। কোথাও মেরামতের পর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই একই সমস্যা আবার দেখা দিচ্ছে। ফলে বারবার রাস্তা খুঁড়ে মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে বর্ষাকালে সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি করছে।
এলাকার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, প্রতিটি বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হলেও সব জায়গায় সমানভাবে জল পৌঁছাচ্ছে না। কোথাও জলের চাপ অত্যন্ত বেশি, কোথাও খুব কম, আবার কিছু এলাকায় একেবারেই জল পৌঁছাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ঠিকাদার এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর পরিবর্তে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাহীন সংস্থাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কারণ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
এছাড়াও প্রকল্পের জন্য নির্মিত বড় বড় ওভারহেড জলাধার বা সিমেন্টের ট্যাঙ্কগুলির গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু এলাকায় ট্যাঙ্কের দেওয়াল বা নিচের অংশে জল চুঁইয়ে পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নির্মাণকাজের সময় মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত তদারকি যথাযথভাবে না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।অন্যদিকে, জল সরবরাহ ব্যবস্থার পাম্প অপারেটর নিয়োগ নিয়েও কিছু এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সর্বত্র স্বচ্ছ ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিকাঠামো প্রকল্পে নিয়মিত সাইট পরিদর্শন, প্রকৌশলীদের সক্রিয় নজরদারি এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় বারবার পাইপ ফেটে যাওয়া, জল সরবরাহে বিঘ্ন এবং সরকারি অর্থের অপচয় অব্যাহত থাকতে পারে।
বর্ষাকালে রাস্তা কেটে পাইপলাইন মেরামতের ফলে যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তা দ্রুত সমাধানের দাবিও উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে খননকাজ করা হচ্ছে সেখানে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি এড়ানো যায়।
এছাড়া জনস্বার্থে নলবাহিত পানীয় জল প্রকল্প সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা এবং সেই নম্বরের ব্যাপক প্রচারের দাবিও জোরালো হয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত একটি whatsapp নাম্বার(8902066666) চালু থাকা সত্ত্বেও তা প্রচারের অভাবে অনেকেই জানতে পারেননি। অনেকের মতে, অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকলে পাইপ ফেটে যাওয়া, জল না আসা, কম চাপ বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

![]()

More Stories
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে কারা পাবেন সুযোগ? রেশন কার্ডের পুরনো ত্রুটিতে বঞ্চনার আশঙ্কা, উঠছে পুনরায় যাচাইয়ের দাবি
প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও কর্মসংস্কারের অভাব: দুর্নীতির মূল কারণ কি শুধুই রাজনৈতিক?
বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য প্রশাসনে: আরও ৬ মাস মুখ্যসচিব পদে বহাল থাকছেন মনোজ কুমার আগরওয়াল