আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে কারা পাবেন সুযোগ? রেশন কার্ডের পুরনো ত্রুটিতে বঞ্চনার আশঙ্কা, উঠছে পুনরায় যাচাইয়ের দাবি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র পূরণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু যোগ্য ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট (NFSA)-এর আওতাধীন কেন্দ্রীয় রেশন কার্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে যেসব পরিবার প্রকৃত অর্থে দরিদ্র হলেও অতীতে বিভিন্ন কারণে NFSA রেশন কার্ড পাননি, তারা এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতার বাইরে থেকে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

অভিজ্ঞ মহল ও সমাজের একাংশের মতে, বিগত সরকারের আমলে NFSA-এর অধীনে রেশন কার্ড বিতরণের সময় বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সচ্ছল পরিবার কেন্দ্রীয় রেশন কার্ড পেয়েছে, আবার বহু দরিদ্র ও প্রকৃত উপযুক্ত পরিবার সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যদিও এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, তবুও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে জনমহলে অসন্তোষ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রেশন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়ন ও পরিবারভিত্তিক যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা হলে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা সহজ হতে পারত। যদিও সময়ে সময়ে কিছু ভুয়া বা অযোগ্য কার্ড বাতিল হয়েছে এবং কিছু রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা (RKSY)-র কার্ড NFSA-তে রূপান্তরিত হয়েছে, তবুও অনেকের দাবি, এই প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রেশন কার্ড তৈরি, সংশোধন বা নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু এলাকায় দালালচক্র সক্রিয় ছিল এবং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। যদি কোথাও এমন অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে তার জন্য শুধুমাত্র আবেদনকারীদের নয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।

বর্তমানে অনেকের আশঙ্কা, যদি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরনো NFSA রেশন কার্ডকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়, তাহলে অতীতের ভুলের প্রভাব নতুন প্রকল্পেও পড়তে পারে। অর্থাৎ, যেসব পরিবার ভুলবশত বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রীয় রেশন কার্ড পায়নি, তারাও স্বাস্থ্যসুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এ কারণে বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাব উঠছে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী নির্ধারণের আগে রাজ্যজুড়ে পরিবারভিত্তিক পুনরায় সামাজিক ও আর্থিক সমীক্ষা (re-verification) করা হোক। আধুনিক ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, আয়ের তথ্য, সম্পত্তির বিবরণ এবং অন্যান্য সরকারি নথির ভিত্তিতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করে উপযুক্ত পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করা হলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু NFSA নয়, রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা (RKSY)-র আওতাধীন কার্ডগুলিও সময়ে সময়ে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায় এবং অযোগ্য ব্যক্তি বা পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা ভোগ করতে না পারে। সমাজের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে যদি রেশন কার্ড ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা নিরপেক্ষভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের অসন্তোষও অনেকাংশে দূর হতে পারে।

Loading