Oplus_16908288

১ আগস্ট জন্মজয়ন্তী

বঙ্গভূমিতে সঙ্ঘকার্যের অন্যতম সংগঠক কেশবরাও দীক্ষিতকে স্মরণ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রবীণ প্রচারক এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে সঙ্ঘের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান সংগঠক শ্রদ্ধেয় কেশবরাও দীক্ষিতের জন্মজয়ন্তী আজ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন, কর্ম ও সমাজসেবামূলক অবদান স্মরণ করা হচ্ছে।

১৯২৫ সালের ১ আগস্ট মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন কেশবরাও দীক্ষিত। পিতা শ্রী দত্তাত্রেয় দীক্ষিত ও মাতা শ্রীমতী সগুণা দেবীর পরিবারে ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্ঘের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি শাখায় যাতায়াত শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সংঘ শিক্ষা বর্গের তিনটি বর্ষের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

১৯৪৯ সালে মারাঠি ও সংস্কৃতে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করার পর তিনি পূর্ণকালীন প্রচারক হিসেবে নিজেকে সঙ্ঘকার্যে উৎসর্গ করেন। ১৯৫০ সালে সঙ্ঘের পরিকল্পনায় কলকাতায় এসে প্রথমে বড়বাজার এবং পরে বিধান সরণি থেকে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রান্ত প্রচারক, ক্ষেত্র বৌদ্ধিক প্রমুখ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সহ ক্ষেত্র প্রচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শারীরিক, বৌদ্ধিক ও ঘোষ বিভাগে তাঁর দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সঙ্ঘের আদর্শ প্রচার এবং নতুন কর্মী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সঙ্ঘের কাজের মূল ভিত্তি হলো আত্মনিবেদন, শৃঙ্খলা ও সমাজসেবার মানসিকতা।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে সঙ্ঘের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রায় ২০ হাজার স্বয়ংসেবকের শীতকালীন শিবির তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত অন্যতম বড় কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা এবং ১৯৯২ সালে সঙ্ঘের উপর নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি কর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উচ্চ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকলেও তিনি নিজেকে সবসময় একজন সাধারণ স্বয়ংসেবক হিসেবেই পরিচয় দিতেন। নিয়মিত শাখায় অংশগ্রহণ, সরল জীবনযাপন এবং প্রচারবিমুখ ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি কর্মীদের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের ফলে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজজীবনের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে একাত্ম হয়ে ওঠেন।

দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তাঁর পরলোকগমন হয়। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সমাজসেবামূলক জীবনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।

Oplus_16908288

Loading