September 18, 2026

এক বছরে পাঁচ লক্ষ কারিগরকে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় যুক্ত করার লক্ষ্য

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাজ্যের পরম্পরাগত কারিগর ও শিল্পীদের আরও বেশি করে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় আনার লক্ষ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গতকাল কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই লক্ষ্যের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বছর বিশ্বকর্মা দিবসে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রায় পাঁচ লক্ষ কারিগর ও শিল্পীকে নিয়ে বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই অনুষ্ঠান ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মাধ্যমে পরম্পরাগত পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের প্রশিক্ষণ, পরিচয়পত্র, আধুনিক টুলকিট এবং ঋণের সুযোগ দেওয়া হবে। যোজনাটির মূল উদ্দেশ্যই হল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতাকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা। কেন্দ্রের এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চালু হয় এবং দেশের ১৮টি পরম্পরাগত পেশাকে এর আওতায় রাখা হয়েছে।

রাজ্যে নথিভুক্ত কারিগরদের মধ্যে যাচাই ও অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২২ হাজার, দ্বিতীয় ধাপে ৭,২২৬ এবং তৃতীয় ধাপে ৪,৬৯৮ জনকে প্রশিক্ষণ, পেশাগত পরিচয়পত্র, টুলকিট এবং ঋণের মতো সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য টুলকিট সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাঠামো অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ৫ থেকে ৭ দিন এবং উন্নত প্রশিক্ষণ ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে হতে পারে। প্রশিক্ষণকালীন দৈনিক ₹৫০০ ভাতা এবং আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সর্বোচ্চ ₹১৫,০০০ পর্যন্ত টুলকিট সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ₹১ লক্ষ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ₹২ লক্ষ পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারিগররা এর সুযোগ পেলেও পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার এই প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করেনি। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসনকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করার জন্য অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলতি বছরের মে মাসে শুরু হয়। এরপর রাজ্য ও জেলা স্তরে নজরদারি ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে উপভোক্তা নির্বাচন, যাচাই ও নথিভুক্তির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের জন্য ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত মোট ₹১৩,০০০ কোটি বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কাঠমিস্ত্রি, নৌকা নির্মাতা, কামার, স্বর্ণকার, কুমোর, মুচি, রাজমিস্ত্রি, ঝুড়ি-মাদুর-বাঁশজাত সামগ্রী প্রস্তুতকারক, পুতুল ও খেলনা প্রস্তুতকারক, নাপিত, ধোপা, দর্জি এবং মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক-সহ ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশা রয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, আগামী এক বছরে আরও বিপুল সংখ্যক ঐতিহ্যবাহী কারিগরকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে তাঁদের দক্ষতা, উৎপাদন ক্ষমতা ও বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক পরম্পরায় চলে আসা বিভিন্ন কারিগরি পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে সরকারি প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও ঋণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের তৈরি পণ্যকে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও জোরদার হতে পারে।

Loading