October 19, 2026

দুর্গন্ধযুক্ত জলেই জীবনযাপন! কুঁড়েলা গ্রামে ২০টি পরিবারের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: উৎসবের মরশুমে চারদিকে যখন আনন্দের আবহ, তখন ভাদুর অঞ্চলের কুঁড়েলা গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী নোংরা জল আর অসহায়তা। টিউবওয়েলের চারপাশে জমে রয়েছে পচা জল। সেই জলেই দাঁড়িয়ে পাম্প করে টিউবওয়েল থেকে জল তুলছেন বাসিন্দারা। আর সেই জলই পান করছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ—পরিবারের প্রত্যেকেই। জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন উদ্বেগজনক ছবি সামনে আসতেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁদের দিন কাটছে। টিউবওয়েলটি পঞ্চায়েতের বসানো। কিন্তু তার চারপাশে জমে থাকা নোংরা জল সরানোর কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। যে জায়গা থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই জায়গাতেই চলছে স্নান এবং বাসনপত্র পরিষ্কারের কাজ। ফলে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টিউবওয়েলের জল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। তা সত্ত্বেও অন্য কোনও উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই সেই জল ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিদিন এই জল পান করার ফলে কোনওভাবে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে কি না। বিশেষ করে বাড়ির ছোট শিশু এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।

তবে এই সমস্যার জন্য শুধুমাত্র প্রশাসন বা পঞ্চায়েতকে দায়ী করছেন না স্থানীয় মহিলারা। নমিতা বাগ, চন্দনা বাগ ও কৌশি বাগের বক্তব্য, নিজেদের জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই সেখানে নিকাশি নালা তৈরির কাজ আটকে রয়েছে। অর্থাৎ, সমস্যার পিছনে রয়েছে স্থানীয় স্তরের জটিলতাও। কিন্তু সেই জটিলতার বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যাঁদের প্রতিদিনের প্রয়োজন নিরাপদ পানীয় জল।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ঘরে ঘরে নলবাহিত জল সরবরাহের জন্য ট্যাপ বসানো থাকলেও এখনও সেই পরিষেবা চালু হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তার সুবিধা পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। প্রশ্ন উঠছে, জল প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে থাকলে পরিষেবা চালু করতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

টিউবওয়েলের চারপাশে জমে থাকা জল নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই জল কোনওভাবে ভূগর্ভস্থ জলের উৎসকে দূষিত করছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ, শুধু চোখে দেখে জলের নিরাপত্তা বিচার করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যেতে পারে, ওই জল পান করার উপযোগী কি না।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি কোনও পরিবার জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে তার দায়ভার কে নেবে? অসুস্থ হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি তার আগেই সতর্ক হয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে—এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কুঁড়েলা গ্রামের এই বাস্তব চিত্র। একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে প্রতিদিনের সংগ্রাম। এই ছবি শুধু একটি গ্রামের দুরবস্থার কথা বলে না, মনে করিয়ে দেয় নিরাপদ জল মানুষের জীবনের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে জড়িত। পানীয় জল কোনও বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন।

এখন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর সমস্যাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। অবিলম্বে জলের গুণমান পরীক্ষা, নিকাশি সমস্যার সমাধান এবং নলবাহিত জল সরবরাহ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যতদিন স্থায়ী সমাধান না হচ্ছে, ততদিন ওই পরিবারগুলির জন্য নিরাপদ পানীয় জলের বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা দরকার।

পাশাপাশি, এলাকার মানুষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও এগিয়ে এলে সমস্যার সমাধানের পথ সহজ হতে পারে। কারণ, জমি বা নিকাশি সংক্রান্ত জটিলতা থাকলেও তার সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি—মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোনও সমস্যাই অনির্দিষ্টকাল ফেলে রাখা যায় না।

এখন প্রশ্ন, কুঁড়েলা গ্রামের মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান কবে?প্রশাসনের নজরে কি পড়বে এই উদ্বেগজনক ছবি? ঘরে ঘরে বসানো জলের ট্যাপ দিয়ে কবে পৌঁছবে নিরাপদ পানীয় জল? নাকি আরও দীর্ঘদিন দুর্গন্ধযুক্ত জল পান করেই দিন কাটাতে হবে প্রায় ২০টি পরিবারকে?

উত্তর সময় দেবে। তবে তার আগেই প্রয়োজন দ্রুত উদ্যোগ, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। কারণ, পানীয় জলের অভাব শুধু দুর্ভোগ নয়—তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

Loading