October 23, 2026

ভক্তির টানে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার জমিদান! গোঘাটের ভাদুর মোড়ে গড়ে উঠছে গীতা শিক্ষা কেন্দ্র

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ভগবানের চরণে নিবেদিত এক টুকরো জমি, আর সেই জমিকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে গোঘাটের ভাদুর মোড়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির ঊর্ধ্বে উঠে ধর্মীয় চেতনার প্রসারে এক মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন কুলকী গ্রামের গৃহবধূ কাকলি পাল। তাঁর দান করা প্রায় সাত কাঠা জমির উপর গড়ে উঠছে গীতা শিক্ষা কেন্দ্র। যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।

গোঘাটের ভাদুর মোড়, আরামবাগ–বাঁকুড়া রোডের ধারে শুরু হয়েছে এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। চারপাশে যখন নির্মাণের ব্যস্ততা, তখন উদ্যোক্তাদের চোখে এক নতুন স্বপ্ন—এমন একটি ধর্মীয় কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার পাশাপাশি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী শুনতে ও শিখতে পারবেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান প্রেরণা কাকলি পাল। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি ইসকনের সঙ্গে যুক্ত। ভগবানের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং ভক্তির টান থেকেই জমি দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে ধর্মীয় ভাবনার প্রসার ঘটানোর এক আন্তরিক প্রয়াস।

গীতা শিক্ষা কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধান করছেন পিনাকী দাস। পাশাপাশি নির্মাণকাজের হিসাবরক্ষণ ও দেখভালের কাজে সহযোগিতা করছেন বুলচন্দ্রপুরের বৈদ্যনাথ পাল, যিনি বদ্রিনাথ দাস নামেও পরিচিত। কাকলি দেবী ও বৈদ্যনাথবাবু নিয়মিত নির্মাণস্থলে এসে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইতিমধ্যেই মন্দির নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ভিত তৈরির পর ভবনের কাঠামো উপরে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের আশা, আগামী এক মাসের মধ্যে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দু’মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে পুজো-অর্চনা এবং গীতা পাঠ ও শিক্ষাদানের কার্যক্রম।

এই কেন্দ্রে থাকবে গৌর-নিতাই, প্রভুপাদ ও শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ। প্রতিদিন নিয়মিত পুজো, ভোগ নিবেদন এবং ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গীতার শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভক্তি, নৈতিকতা, কর্তব্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ তৈরি হবে।

ভাদুর মোড়ে এই কেন্দ্র গড়ে ওঠার খবরে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, আগামী দিনে এই মন্দির হয়ে উঠবে এলাকার মানুষের প্রার্থনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে মানুষ এখানে এসে ভগবানের স্মরণে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সকলের সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তার মধ্য দিয়েই এই কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যে কেউ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারেন।

একটি জমিদান থেকেই শুরু হয়েছে বৃহত্তর এক আধ্যাত্মিক উদ্যোগ। কাকলি পালের এই পদক্ষেপ শুধু একটি মন্দির নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোঘাটের ভাদুর মোড়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও ভক্তিচর্চার নতুন পরিবেশ গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা।

ইট-পাথরের কাঠামো একদিন সম্পূর্ণ হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে বিগ্রহ, শুরু হবে পুজো ও গীতাপাঠ। আর সেই সঙ্গে ভাদুর মোড়ে ছড়িয়ে পড়বে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার নতুন আলো—এমনই প্রত্যাশা উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের।

Loading