October 25, 2026

লাইভ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান দেখানো যাবে না, হিংসাত্মক ভিজ্যুয়ালেও লাগাম—বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির সংবাদ সম্প্রচারে আরও কড়া নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। ২১ অক্টোবর জারি করা এক অ্যাডভাইজরিতে ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৯৫’ এবং ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রুলস, ১৯৯৪’-এর অধীনে নির্ধারিত প্রোগ্রাম কোড কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচারে প্রোগ্রাম কোডের বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। তাই সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা এবং সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলাকালীন লাইভ কভারেজ নিষিদ্ধ বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এমন অভিযানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকের নির্দিষ্ট সময়ের ব্রিফিংয়ের মধ্যেই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভিজ্যুয়াল সম্প্রচার করা যাবে না এবং প্রয়োজনে প্রতিটি ভিজ্যুয়ালে সময় উল্লেখ করতে হবে, যাতে দর্শকদের মধ্যে লাইভ সম্প্রচারের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। পাশাপাশি হিংসাত্মক, গ্রাফিক বা অত্যন্ত অস্বস্তিকর দৃশ্য সম্প্রচারের ক্ষেত্রে চ্যানেলগুলিকে যথেষ্ট সংযম দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। অপরাধ ও হিংসার খবর পরিবেশনের সময় শুধুমাত্র যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন করতে হবে। চাঞ্চল্যকর, বিভ্রান্তিকর বা অর্ধসত্য তথ্য এবং এমন কোনও ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, যা বেআইনি বা সামাজিকভাবে অনভিপ্রেত আচরণকে স্বাভাবিক বা মহিমান্বিত করে তুলতে পারে। দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় কোনও বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিও সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে টাইম-স্ট্যাম্প ব্যবহার এবং যাচাই করা তথ্যের উপর নির্ভর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অযথা দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে। একইসঙ্গে টেলিভিশন সম্প্রচারে ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র সার্ভে অফ ইন্ডিয়া প্রকাশিত প্রামাণিক মানচিত্র ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও সতর্ক করেছে মন্ত্রক। লাইভ ডিবেট বা প্যানেল আলোচনায় কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহ দেওয়া যাবে না। বিতর্কিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন এবং তাঁদের বক্তব্যের উপর যথাযথ সম্পাদকীয় নজরদারি রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে মিউট, ডিসক্লেমার, অনুষ্ঠান বন্ধ বা সম্প্রচার বিচ্ছিন্ন করার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। নাম-পরিচয়ের পাশাপাশি এমন কোনও ছবি, পারিবারিক তথ্য, এলাকা বা পরোক্ষ তথ্যও প্রকাশ করা যাবে না, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এছাড়াও সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল নিউজ প্রেজেন্টেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা গেলেও তার ফলে সংবাদে নির্ভুলতা, সত্যতা বা সংবেদনশীলতা যেন কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রোডাকশন ও সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কর্মীকে প্রোগ্রাম কোড সম্পর্কে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত ও সংবেদনশীল করে তুলতে হবে। এজন্য নিয়মিত ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৯৫’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধির অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র।

Loading