সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টি এবং পরিচর্যার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু পুষ্টিকর খাবার প্রদান নয়, ছোটদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, নিয়মানুবর্তিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও নিরন্তর কাজ করে চলেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। এমনই একটি কেন্দ্রের কাজকর্ম ও বাস্তব পরিস্থিতি উঠে এল হুগলি জেলার গোঘাটের রঘুবাটি অঞ্চলের রতনপুরের পীরমল্লিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। সম্প্রতি এই কেন্দ্রে খুদে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ স্বচ্ছতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি। শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে চলে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম। দাঁত মাজা, হাত ও নখ পরিষ্কার রাখা, প্রার্থনা করা, গুরুজনদের সম্মান করা, নিয়মিত পড়াশোনা এবং খেলাধুলার মতো বিষয়গুলি ছোটদের শেখানো হয়। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার, শারীরিক পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কেও পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশুদের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন পর্যবেক্ষণ এবং পুষ্টির দিকেও নজর রাখা হয়।কেন্দ্রের কর্মী সুলেখা চক্রবর্তী এবং সহায়িকা অসীমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কীভাবে এই কেন্দ্র পরিচালিত হয়, শিশুদের কী কী শেখানো হয় এবং গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য কী ধরনের পরিষেবা দেওয়া হয়। অভিভাবকদের কেন শিশুদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠানো উচিত, সেই বিষয়েও তাঁরা বিস্তারিতভাবে জানান।এই কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ একটি ক্রীড়াঙ্গন। শিশুদের খেলাধুলা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে এই ব্যবস্থা। তবে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এমন ক্রীড়াঙ্গন নেই। কিন্তু এই ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। খেলার সরঞ্জাম, স্লিপার ও বিভিন্ন ধরনের দোলনায় মরচে ধরেছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও গ্রিজিংয়ের অভাবও চোখে পড়েছে। পাশাপাশি মাঠের মাটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের পাশেই ধানজমি থাকায় সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড় ও জোঁকের উপদ্রবের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কেন্দ্রের কর্মী সুলেখা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ হলে ক্রীড়াঙ্গনটি আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সহায়িকা অসীমা ভট্টাচার্য জানান, শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সঠিক গুণমানের খাবার দেওয়ার জন্য তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। তবে কেন্দ্রের ঘরের পরিসর এবং খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।তবে পরিকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও কেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এই কেন্দ্রে আসার পর শিশুরা অনেক কিছু শিখেছে। নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখা, নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, লেখা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা অভ্যাস গড়ে উঠছে তাদের মধ্যে। সব মিলিয়ে রতনপুরের পীরমল্লিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সামনে এসেছে পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের কিছু ঘাটতি। শিশুদের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগী হলে এই কেন্দ্রের পরিষেবা আরও উন্নত ও নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন অভিভাবকরা।



![]()

More Stories
বেঙ্গাইয়ের দুই লক্ষ্মীতলা, ২১৩ ও ১৬৩ বছরের ইতিহাসে আজও অমলিন বিশ্বাস ও ঐতিহ্য
ভক্তির টানে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার জমিদান! গোঘাটের ভাদুর মোড়ে গড়ে উঠছে গীতা শিক্ষা কেন্দ্র
খেলার ছলে শুরু, আজ জগজ্জননী মা দুর্গার আরাধনা! বাজুয়ায় ছোটদের হাতে গড়া পুজোয় ফুটে উঠেছে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও বাঙালির সংস্কৃতি