সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইরানের আমু হাজিকে রীতিমত জোর করে স্নান করিয়ে পরিষ্কার করাতেই চরম পরিণতি ঘটল।দক্ষিণ ইরানের ফার্জের দেজগা গ্রামে একাই ৬০ বছর ধরে বসবাস করতেন ৯৪ বছরের বৃদ্ধ আমু হাজি। কয়েকদিন আগে প্রতিবেশীরা প্রায় জোর করে তাঁকে স্নান করিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। আর তাতেই হয় বিপত্তি।দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফার্সের ওই গ্রামে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অবিবাহিত হাজির জীবনে একটাই ভয় ছিল, স্নান করলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আর তাই জলকে এড়িয়ে যেতেন সবসময়। তবে কয়েক মাস আগে তাঁকে প্রথমবার স্নান করার জন্য উদ্যম নেন প্রতিবেশীরাই।একটি ইঁটের ছোট্ট কুঁড়েঘরে একাই বসবাস করতেন। স্থানীয়দের কথায়, ছোটবেলায় মাথায় একবার সজোরে আঘাত পেয়েছিলেন আমু। তারপর অসুস্থ হয়ে পরেছিলেন। তীব্র জ্বরে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ে। স্নান করলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়বেন, সেই আশঙ্কাতেই ৬০ বছর ধরে স্নান করেননি।সূত্রের খবর, মাসখানেক আগে গ্রামবাসীরা তাঁর গায়ে জল ঢেলে দেয়। তারপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজের খুপরি থেকে উদ্ধার করা হয় আমুর মৃতদেহ।ভবঘুরে আমুর প্রতিদিন খাবার জুটত না। যেদিন পেতেন খেতেন। আর যেদিন পেতেন না সেদিন রাস্তার নোংরা খাবার কুড়িয়ে খেতেন। রোডকিল খেতেন, ধূপপানের জন্য পশুর মলমূত্রে ভরা নোংরা ভরতি একটি পাইপ ব্যবহার করতেন তিনি। তাঁর ধারণা ছিল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাঁকে আরও অসুস্থ করে তুলবে।২০১৩ সালে তাঁর উপর ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ লাইফ অফ আমু হাজি’ নামে একটি ছোট তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। সেই থেকেই তিনি ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা ব্যক্তি হিসেবে তকমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেশীদের কথায়, পরিষ্কার করার জন্য স্থানীয় একটি নদীতে স্নান করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের ছলচাতুরি বুঝতে পেরে নিজেই গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিলেন। কয়েক মাস আগে প্রথমবারের জন্য গ্রামবাসীরা তাঁকে বাথরুমে নিয়ে গিয়েছিল। তারপরই আমু অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শুধু স্নানের ক্ষেত্রেই নয়, আমু মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, পচা-গলা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকবেন তিনি। কারণ তাজা ও স্বাস্থ্যকর খাবার তাঁকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। সবমিলিয়ে তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত প্রতিবেশীরা।
![]()

More Stories
ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ
“ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি”—বলরাম দাসের অলৌকিক রথযাত্রার লীলা
বিশ্বাসের বন্ধন: শ্রী রামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্রনাথের এক স্মরণীয় ঘটনা