সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: ৩২ বছর আমেরিকায় রয়েছেন। কিন্তু কোনভাবেই ভুলতে পারেননি নিজের গ্রামকে। আর তাই কখনও সুদূর আমেরিকায় বসেই, আবার কখনও বা গ্রামে ছুটে এসে গ্রামের মানুষের জন্য সহৃদয় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন আমেরিকার মেরিল্যান্ডের ইউনিফর্মড সার্ভিসেস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর তথা এ্যাসোসিয়েট ডিন শৈবাল দে। আর একাজে তাঁকে যোগ্য সহায়তা দিচ্ছেন তাঁর গবেষক-বিজ্ঞানী স্ত্রী বর্ণা দে। শৈবালবাবুর আদি বাড়ি গোঘাটের শাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মুক্তারপুর গ্রামে। আরামবাগ শহরেও তাঁদের একটি বাড়ি রয়েছে। কিন্তু কোনভাবেই ভুলতে পারেননি নিজের ছেলেবেলার গ্রামকে। বিদেশে গিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও মন কাঁদে গ্রামের মানুষগুলোর জন্য। তাই প্রতি বছরই দু-তিন বার তিনি গ্রামে ছুটে আসেন। তাঁর কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে গ্রামের মানুষগুলির দিকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন। করোনা মহামারীর সময় তিনি গ্রামবাসীদের কথা ভেবে ভীষণই উতলা হয়ে পড়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর গ্রামের একজন মানুষও যেন অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় না মারা যান। তাই সুদুর আমেরিকাতে বসেই স্থানীয় গ্রামীণ চিকিৎসক অপূর্বজিৎ দোলুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্যপরিষেবা নিশ্চিত করেছিলেন। বাবার স্মৃতিতে গ্রামেতেই গড়ে তোলেন ‘অজয় সেবা সদন’। অপূর্ববাবুর মাধ্যমে প্রতিদিন সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, গ্রামের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার তেমন সুযোগ ছিল না। তাই তিনি তাঁদের জন্য একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি তৈরি করেছেন ‘অজয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। এখানে রীতিমতো কলকাতার প্রথম ডিভিশন থেকে প্রশিক্ষক নিয়ে এসে বিনা খরচে প্রতি সপ্তাহে ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর গ্রামের যে সমস্ত দুঃস্থ পরিবারের ছেলেমেয়েরা অর্থের অভাবে টিউশন পড়তে পারে না তাদের জন্য তৈরি করেছেন ফ্রী কোচিং সেন্টার। এখানেই শেষ নয়, অনেক পরিবারই রয়েছেন অর্থের অভাবে এখনও ভালভাবে খাওয়া-দাওয়া জোটে না। এরকম চারটি পরিবারকে প্রতিমাসের সমস্ত খাবারের খরচও তিনি বহন করেন। এছাড়া দুঃস্থদের জন্য বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী তো রয়েছেই। চিকিৎসার জন্য বা অন্যকোন প্রয়োজনে কারও হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন পড়লে শৈবালবাবুই তাঁদের কাছে সহায়সম্বল হয়ে দাঁড়ান। আর এ কাজে তাঁকে সবরকম সাহায্য করেন চিকিৎসক অপূর্বজিৎ দোলুই এবং গ্রামেরই এক শুভাকাঙ্ক্ষী শুভ্রজ্যোতি বসু। পার্শ্ববর্তী বেলেকুশমা গ্রামের ঢাকি বিশ্বনাথ দাস একেবারেই ভাঙাচোরা বাড়িতে বাস করতেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এখনও পাননি। তাই শৈবাল বাবু লক্ষাধিক টাকা খরচ করে তাঁকে এ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া দু’কামরা একটা পাকাবাড়িও তৈরি করে দিয়েছেন। সম্প্রতি আবার তিনি সস্ত্রীক গ্রামে এসেছেন। এবারও শীতবস্ত্র প্রদান থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আর গ্রামের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসায় আপ্লুত গ্রামের মানুষজনও। ডাঃ অপূর্বজিৎ দোলুই বলেন, ওনার মত মানুষের সান্নিধ্যে থাকাটাই আমার কাছে বড় পাওনা। উনি ওনার বাবার নামে তৈরি ‘অজয় সেবা সদন’-এর দায়িত্ব আমার উপর দেওয়ায় আমি গর্বিত, আমি আপ্লুত। নতুন বাড়ি পেয়ে বিশ্বনাথ দাস বলেন, ওনাকে কি বলে ধন্যবাদ জানাবো ভাষা নেই। আমরা আমাদের যন্ত্রণার কথা ওনাকে জানিয়েছিলাম। তারপরে উনি এই বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সবই হয়েছে ওনার জন্যই।

![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত