সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষের স্বার্থে এত কাজ করছে, তবু চোখে ঠুলি এঁটে বসে থাকা বিজেপির লোকগুলো তাঁর পেছনে লাগা ছাড়া আর কোন কাজ নাই। আজকে ভোটের স্বার্থে কোথায় চলে যাচ্ছে বীরভূমের বাউল বাড়িতে, কোথাও দলিত-আদিবাসী বাড়িতে খেতে, কোথায় চলে যাচ্ছে মতুয়া বাড়িতে খেতে। এত খাবার নোলা যখন তখন দিল্লির মাটিতে বসে কৃষকদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে সমস্যাটা মিটিয়ে নিলেই তো হয়। কিন্তু ওরা সেটা করবে না কারণ এটা আম্বানি-আদানির সরকার, বড়লোকদের সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে গোঘাটের কামারপুকুর চটিতে এক পথসভায় এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেত্রী সুজাতা খাঁ মন্ডল। এর আগে এদিন তিনি গোঘাট বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত রোড শোতে অংশগ্রহণ করেন।
গোঘাটের পচাখালি থেকে কামারপুকুর চটি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রোড শোতে অসংখ্য তৃণমূল কর্মী-সমর্থক পা মেলান। এছাড়াও এতে অংশগ্রহণ করেন বিধায়ক মানস মজুমদার গোঘাটের দুটি ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নারায়ন পাঁজা ও তপন মন্ডল প্রমুখ। এদিনের রোড শো ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। রোড শো শেষে কামারপুকুর চটিতে এক পথসভার হয়। সেখানে সুজাতা এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, যারা বাংলার মানুষের যন্ত্রণা বোঝে না, বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝে না, তারা আবার বাংলায় ক্ষমতায় আসবে! আসলে কি জানেন, স্বপ্ন দেখতে তো পয়সা লাগে না। আর স্বপ্ন দেখার জন্য ট্যাক্সও দিতে হয় না। তাই স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে। এদিন সুজাতা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের সচেতন করে দেন। তিনি বলেন, গরীব-মধ্যবিত্ত সহ সকলের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পাঁচ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। কারণ যদি কারও বড় রোগ ধরে তিনি অন্তত চিকিৎসা করাতে পারবেন।
তার জন্য তাঁকে মাথা খুঁড়ে মরতে হবে না। কিন্তু যদি বিজেপি সরকার আসে তাহলে হয়তো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। তখন হাসপাতালে ওই কার্ড নিয়ে গেলে বলবে, আরে এটা তো মমতাদির আমলের। এখন তো মমতাদি নেই, তাই জন্যই কার্ডটা কাজে লাগবে না। তাই তখন চোখের সামনে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েও প্রিয়জনকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখবেন। তাই ভুল করে মমতাদির হাত ছাড়বেন না। মমতাদিকে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী বানান। যাতে শুধু স্বাস্থ্যসাথী নয় জীবনের সাথী হয়ে চলতে পারেন। তিনি এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি হলেন বাংলার মা। মা যেমন আমাদের বাড়ি থেকে শক্ত হাতে চালনা করেন, সেরকম মমতা ব্যানার্জিও পশ্চিমবঙ্গকে চালনা করেন শক্ত হাতে। আর এই শক্ত হাত আলগা হতে দেবেন না। সে দায়িত্ব আপনাদেরই হাতে। তাই প্রত্যেকটা ভোট খুব ভেবেচিন্তে তৃণমূলের বাক্সে দেবেন। তিনি বলেন, বিজেপি জালি পার্টির রাজ্য সভাপতি গরুর দুধ থেকে সোনা বের করুন। তাঁকে কোন ডিস্টার্ব করবেন না। আমরা কিন্তু মমতা মায়ের হাত ধরে এই বাংলাকে সোনার বাংলা করব। এদিনের সভায় তিনি দল ছেড়ে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী, রাজিব ব্যানার্জি, বৈশালী ডালমিয়া প্রমূখ নেতাদের নাম না করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
![]()

More Stories
জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন
আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, গ্রহদের কুচকাওয়াজ
ওজনে কারচুপি সতর্ক থাকুন! সোনার দোকান,সবজি বাজার থেকে হাসপাতাল—ভেরিফিকেশন না দেখলে ঠকতে পারেন