February 4, 2026

নাটকীয়ভাবে রাজ্যসভার মধ্যেই ইস্তফা তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর, তীব্র আলোড়ন রাজনৈতিক মহলে

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন যেন কোনভাবেই থামছে না। একের পর এক নেতা-মন্ত্রীরা দল ছাড়ছেন। যদিও বিজেপি থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল আপাতত দলে আর কাউকে নেওয়া হবে না। কিন্তু শুক্রবার তারই মধ্যে নাটকীয়ভাবে রাজ্যসভার অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার মধ্যে বক্তব্য রাখতে রাখতেই নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল ছাড়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, আমার রাজ্যের সর্বত্র হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। অথচ আমরা কিছুই বলতে পারছি না। আমি রবীন্দ্রনাথ-নেতাজির মাটি থেকে আসা মানুষ। তাই এটা আর আমি দেখতে পারছি না। আমি একটি দলে আছি। তাই দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হচ্ছে। কিন্তু আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এর চেয়ে ইস্তফা দিয়ে বাংলায় গিয়ে কাজ করা ভাল। তিনি আরও বলেন, আমি আমার অন্তরের ডাক শুনেছি।  সকলকেই কখনও না কখনও অন্তরাত্মার ডাক শুনতে হয়। বক্তৃতা চলাকালীনই তিনি হঠাৎ ঘোষণা করেন, আমি তৃণমূল ছাড়ছি। তবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যান রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি দীনেশ ত্রিবেদীকে বলেন, এভাবে ইস্তফা দেওয়া যায় না। এর একটা পদ্ধতি আছে। আপনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিন। কিন্তু যেভাবে দীনেশ ত্রিবেদী এদিন নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করেছেন, নিজের বক্তব্যের মধ্যে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন তা সংসদীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন।

উল্লেখ্য, একসময় দীনেশ ত্রিবেদী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এমনকি রেলমন্ত্রক ছাড়ার পর  মমতা ব্যানার্জি ওই মন্ত্রক দীনেশ ত্রিবেদীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু রেল বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি মমতা ব্যানার্জির রোষের মুখে পড়েছিলেন। কারণ রেলভাড়া বাড়ানোয় একটুও খুশি ছিলেন না মমতা ব্যানার্জি। তারপর দীনেশ ত্রিবেদীকে  রেলমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন মুকুল রায়। যদিও তারপর দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির মধ্যে সু-সম্পর্ক ফিরে এসেছিল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কে যে এতটা চিড় ধরেছিল আগে থেকে অনেকেই আঁচ করতে পারেননি। তাই এদিন দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফায় অনেকেই অবাক হয়ে গেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপিতে যোগদান করার জন্যই দীনেশ ত্রিবেদী এদিন এই নাটকীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাই এখন তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুধু কেবল সময়ের অপেক্ষা। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস দীনেশ ত্রিবেদীর রাজ্যসভায় বক্তব্য পেশ করা নিয়ে বিজেপিকে একহাত নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যেভাবে দীনেশ ত্রিবেদীকে সংসদের উচ্চকক্ষে এদিন বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তা ঠিক হয়নি। কিন্তু ঘটনা যাই হোক, দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফার ঘটনায় তৃণমূল  ব্যাকফুটে চলে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Loading