সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বিশ্ব উষ্ণায়নের চক্করে পড়ে শীত কি আর এখান আসে সেভাবে? গত পাঁচ দশকের মধ্যে উষ্ণতম মকর সংক্রান্তির সাক্ষী হতে হয়েছে ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে। এই তো অবস্থা! এর মধ্যে দাঁড়িয়ে কনকনে শীতের কথা ভেবে মনটা আনচান করলে কী করবেন? ‘হযবরল’-তে সুকুমার রায় বলেছিলেন, ‘গরম লাগে তো তিব্বত গেলেই পারো।” তবে, তিব্বত যতই অসামান্য সৌন্দর্যের খনি হোক, ঠান্ডায় মজে যেতেই যদি হয়, আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত রাশিয়ার ইয়াকুৎস্ক। হ্যাঁ, বিশ্বের শীতলতম শহর এটাই! -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও সেখানে দিব্যি থাকেন মানুষ!বয়সে মোটেও নতুন নয় এই শহর। ১৬৩২ সালে এর পত্তন হয়েছিল। সাইবেরিয়ার ইয়াকুতিয়া প্রদেশের রাজধানী এই শহরের জনসংখ্যাও কিন্তু নেহাত কম নয়। রীতিমতো সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি! বছরে অন্তত ৭ মাস, মোটামুটি অক্টোবর থেকে এপ্রিল- এই সময়টায় এখানে শৈত্যের ছোবলে নিশ্বাস নেয়াই যেন দায়। তার মধ্যে অন্তত তিন মাস তাপমাত্রা পৌঁছে যায় -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবুও মানুষের জীবন এখানে রঙিন ও স্বতঃস্ফূর্ত। যদিও এর চেয়েও ঠান্ডায় বসবাসের নজির রয়েছে।ইয়াকুৎস্কের পূর্বে ৫০০ মাইল দূরত্বে একটা গ্রামে তাপমাত্রা নেমে যায় -৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও। ওই গ্রামের বাসিন্দারাই পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। কিন্তু ইয়াকুৎস্কের নজিরও তাহলে হেলাফেলার নয়। সবচেয়ে বড় কথা গ্রামটিতে মেরেকেটে শ’পাঁচেক বাসিন্দা। সেখানে ইয়াকুৎস্কে লাখ লাখ মানুষ।ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। ভয়ানক ঠান্ডায় বাইরে কিছুক্ষণ থাকলে যেখানে গোঁফ-দাড়ি-ভুরু পর্যন্ত জমে সাদা হয়ে যায়, সেখানে মানুষ থাকে কী করে? ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ সবচেয়ে কনকনে অবস্থাতেও এখানে বন্ধ হয় না দোকান! একেক সময় দিনের পরদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলে না। কখনও বা সকালে সাড়ে দশটায় সকাল হয়। তিনটের মধ্যে রাত নেমে যায়। তারপর ক্রমশ অন্ধকারে আরও ঠান্ডায় ডুবে যায় শহরটা। পাখির চোখে দেখলে মনে হবে তুষারে ঢাকা নিঃসীম প্রেতপুরী।
![]()

More Stories
দিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি, পারমাণবিক কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ নেই: IAEA
সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতই থাকবে: ভারতের কড়া বার্তা পাকিস্তানকে
কিউবায় জ্বালানির সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত, মানবিক সঙ্কটের আশঙ্কা