February 4, 2026

জন্মের হার কমছে বিশ্বজুড়ে! প্রবীন প্রজন্মের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ : বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে প্রকাশ পেয়েছিল ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রস্পেক্ট-এর বার্ষিক রিপোর্ট। সেই হিসেব অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে ক্রমশই কমেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, ২০২০ সালে যা ১ শতাংশেরও কম।জন্মের হার কমছে বলে চিন, জাপানের মতো দেশ ইতিমধ্যেই চিন্তিত। সেই সব দেশে কর্মক্ষম, নবীন প্রজন্মের উপস্থিতি কমছে, উল্টে বাড়ছে নির্ভরশীল প্রবীণের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে দু’য়ের বেশি সন্তান হলে সরকারি তরফে নানা সুযোগ-সুবিধা, ফ্রি পরিষেবা ঘোষণা করে মহিলাদের সন্তান উৎপাদনে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে এই সব দেশের সরকার। তবে চিন্তাটা ভারত-সহ অন্য দেশের ক্ষেত্রেও যে বাড়ছে, সেটা বুঝিয়ে দিল ‘দ্য ল্যান্সেট’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্ট। তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৫০ সালে ভারতে সন্তান উৎপাদনশীলতার হার ছিল ৬.২, যেটা ২০২১ সালে নেমে গিয়েছে ২-এ! ২০৫০ সালে এই হার ১.২৯ এবং ২১০০-তে ১.০৪-এ নেমে যাওয়ার পূর্বাভাসও রয়েছে রিপোর্টে। সন্তান উৎপাদনশীলতার হার কমে যাওয়ার এই ট্রেন্ড অবশ্য বিশ্বজুড়ে। ১৯৫০ সালে বিশ্বের ‘টোটাল ফার্টিলিটি রেট’ (টিএফআর) মহিলা পিছু ছিল ৪.৮ সন্তান, সেটা ২০২১ সালে কমে হয়েছে ২.২। ২০৫০ সালে বিশ্বজুড়ে এই হার ১.৮ এবং ২১০০ সালে ১.৬ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে ১২.৯ কোটি নতুন প্রাণ জন্ম নিয়েছে। ১৯৫০ সালে সংখ্যাটা ৯.৩ কোটি ছিল, সেই তুলনায় অনেকটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ২০১৬ সালে সংখ্যাটা ১৪.২ কোটিতে পৌঁছেছিল, যা ৫ বছরে অনেকটাই কমেছে। ভারতের ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালে ১.৬ কোটি শিশু জন্ম নিয়েছিল, ২০২১ সালে সংখ্যাটা ২.২ কোটি, কিন্তু ২০৫০ সালে সেই সংখ্যা কমে ১.৩ কোটিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ ২০২১ ফার্টিলিটি অ্যান্ড ফোরকাস্টিং কোলাবোরেটর্স’-এর রিপোর্ট বলছে, মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার এবং জন্মনিয়ন্ত্রকের ব্যবহার জন্মের হার অনেকটাই কমিয়েছে। তবে, যে সব দেশে মাথাপিছু আয় বেশ কম, সেখানে একবিংশ শতাব্দীতেও সন্তান উৎপাদনশীলতার হার অনেকটাই বেশি। কারণ, সেই সব দেশে যত বেশি সন্তান, তত বেশি উপার্জনের হাত— এমনটাই মনে করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। রিপোর্ট বলছে, মাথাপিছু স্বল্প আয়ের দেশে হাই-ফার্টিলিটি রেট এবং উন্নত দেশে লো ফার্টিলিটি জনবিন্যাসগত দিক থেকে বিশ্বকে দু’ভাগে ভাগ করে দেবে। শিশুদের সিংহভাগই জন্মাবে গরিব দেশে। তবে একই সঙ্গে আগামী কয়েক দশকে গরিব দেশগুলিতে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহের মতো বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেশি। ফলে, খাদ্য, জল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্কট বাড়বে।

Loading