কোভিশিল্ডে সাইড এফেক্ট! স্বীকার করলো প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অ্যাস্ট্রোজেনেকা’

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ : আদালতে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল যে, তাদের তৈরি প্রতিষেধকে কঠিন রোগের ঝুঁকি আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে ওই সংস্থা জানিয়েছিল, তাদের তৈরি করা প্রতিষেধকের কারণে বিরল রোগ ‘থ্রম্বোসিস উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম’ (টিটিএস)-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। একটা খবর ছড়িয়েছিল যে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়ালের সময় এক স্বেচ্ছাসেবক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জানা গিয়েছিল, টিকার ইঞ্জেকশন নেওয়ার পরেই এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অজানা রোগ দেখা দিয়েছিল। কী ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মহিলা সেটা প্রথমে জানায়নি ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম। পরে তারা বিবৃতি দিয়ে জানায়, স্নায়ুর রোগ ধরা পড়েছে মহিলার শরীরে। সম্ভবত ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। শিরদাঁড়া ও পেশীতে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল মহিলার।পরে ব্রাজিলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়াল চলাকালীন এক স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর খবরে হইচই পড়ে যায়। জানা যায়, টিকার ডোজের পরেই ব্লাড ক্লট শুরু হয় ওই স্বেচ্ছাসেবকের। শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হয় তাঁর।এরপর অ্যাস্ট্রজেনেকা ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ডিএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল একসময়। ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম মানতেও চায়নি যে তাদের টিকায় গলদ আছে। কিন্তু এতদিন পরে ফের জানা যাচ্ছে, অ্যাস্ট্রজেনেকার তৈরি টিকা ভারতে যার নাম কোভিশিল্ড, সেই টিকার ডোজে বিরল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেখা গেছে, এই টিকা যাঁরা নিয়েছিলেন তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে থ্রম্বোসিস বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। যে উপসর্গগুলো দেখা দিয়েছে তার নাম চিকিৎসার ভাষায় থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম (TTS)। এমনকী রক্তে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকাও কমতে দেখা গিয়েছে।ব্রিটেনের হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলাও দায়ের হয়েছে। অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় বিরল রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এই মর্মে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অ্যাস্ট্রজেনেকা স্বীকারও করেছে যে টিকার ডোজেই এমন সাইড এফেক্টস হয়েছে।করোনা ভইরাসের থাবায় যখন বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন ভরসা জুগিয়েছিল কোভিডের টিকা। কিন্তু কোভিড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও নানা মহলে নানা রকম মতভেদ তৈরি হয়েছিল। একদল দাবি করেছিলেন, অল্প বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধির জন্য দায়ী এই টিকা। অনেকেই আবার দাবি করেছিলেন, কোভিড আসার পরেই বেড়ে গিয়েছে অকালমৃত্যুর হার। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে কেন বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, তা নিয়ে গবেষণা করেছিল আইসিএমআরও।অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় বিরল স্নায়ুর রোগ দেখা দিচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছিল। যদিও অক্সফোর্ড ও জেন্নার ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্টরা দাবি করেছিলেন, ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস নামক স্নায়ুর রোগে শিরদাঁড়ার দু’পাশে যন্ত্রণা হয় রোগীর। স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুতে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠাতেও পারে না। ফলে স্পর্শের অনুভূতি চলে যাওয়া, প্যারালাইসিস, পেশীর ব্যথা, পেশীর খিঁচুনি, ব্লাডার এবং বাওয়েল সিনড্রোমও দেখা দেয় রোগীর। অনেক সময় এই রোগে স্নায়ুর আর বার্তা আদানপ্রদান করতে পারে না।

Loading