সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (৬ জুলাই ১৯০১ – ২৩ জুন ১৯৫৩) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ব্যারিস্টার এবং শিক্ষাবিদ। যিনি জওহরলাল নেহেরুর মন্ত্রী সভায় ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী (বর্তমানে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নামে পরিচিত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কুখ্যাত “নেহরু-লিয়াকত” চুক্তির বিরোধিতা করে তিনি নেহেরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সহযোগিতায় ভারতীয় জনতা পার্টির পূর্বসূরি দল ভারতীয় জনসঙ্ঘ দল প্রতিষ্ঠা করেন। সারা দেশে আজ যথাযথ মর্যাদায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম দিবস পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। এদিকে কলকাতাতেও রেড রোডে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিজেপি নেতা তাপস রায়, তমোঘ্ন ঘোষ সহ রাজ্য নেতৃত্ব। পরে মুরলীধর সেন লেনে দলীয় কার্যালয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের আদি নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার জিরাট–বলাগড় গ্রামে৷ তার প্রপিতামহ পারিবারিক কারণে হুগলী জেলারই এক ব্রাহ্মণ অধ্যুষিত গ্রাম দিগসুই থেকে জিরাট-বলাগড় গ্রামে এসে বসতি গড়েন৷ তার পিতামহ গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৮৩৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর জিরাট-বলাগড় গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি ছিলেন মেধাবী৷ তিনি জিরাটের বিত্তশালীদের সাহায্যে কলকাতায় ডাক্তারী পড়তে আসেন এবং পরে জিরাট-বলাগড় গ্রাম ছেড়ে কলকাতার ভবানীপুরে বসতি স্থাপন করেন৷
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতায় এক উচ্চ সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্রীমতী যোগমায়া দেবীর কাছ থেকে তিনি কিংবদন্তিতুল্য পাণ্ডিত্য ও ঐকান্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন। তারা তাঁকে ‘পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন’-যাপনে অনুপ্রাণিতও করেন। ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান দখল করার পর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ভারতীয় ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯২৪ সালে বি.এল পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করেন। ছাত্রাবস্থাতেই শ্যামাপ্রসাদ তার ভাইস-চ্যান্সেলর পিতাকে শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করেন। পিতার মতো তিনিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (১৯৩৪-১৯৩৮) হন।
![]()

More Stories
ডিএ মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ১০,৪০০ কোটি টাকা প্রসঙ্গ সামনে
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা