????????????????????????????????????

ভোটটা হয়ে যাক তারপরে দেখবো কত ধানে কত চাল, কোন গদ্দার তোমাকে শেল্টার দিতে পারে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

সোমালিয়া সংবাদ, কামারপুকুর: নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে বিজেপি নেতাদের বাংলার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার কামারপুকুরের জনসভা থেকে কারও নাম না করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওদের শুধু মুখে বড় বড় কথা। ওরা কি করেছে?‌ বলে কিনা বাংলাকে সুনার বাংলা বানাবো। সোনার বাংলা বলতে পারে না। আমি বলেছিলাম, আমাদের রাজ্যের নাম ‘‌বাংলা’‌ করে দাও। আজ পর্যন্ত তা করে না। আসলে ওরা বাংলাকে ঘৃণা করে। তাই এই রাজ্যের নাম আজ পর্যন্ত ‘‌বাংলা’‌ করে দেয়নি। আমি এর ধিক্কার জানাই। আর তুমি তো চিরকাল থাকবে না ভাই, তখন বাংলা বাংলাই হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  আমি কখনও কারও গায়ে হাত দিই না। কেউ যদি আমার গায়েও হাত দেয় আমি ক্ষমা করে দিই। অনেক সময় আমাকে আমার দলের লোকেরা বলে, দিদি আপনি একটু দুর্বল আছেন। যারা শয়তান আপনি তাদের বিরুদ্ধেও কিছু করেন না। আমি বলি করি করি। কিন্তু কিছু কিছু লোক আছে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছি তো কি করব। তা নাহলে ওই গাদ্দারদের কি সাহস খাইয়ে-পরিয়ে মানুষ করেছি, দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুষেছি, কেউটে সাপ পুষেছি, আর গোখরো সাপ পুষেছি। এত বড় সাহস। মানুষ যাকে পছন্দ করবে ভোট দেবে মানুষ যাকে পছন্দ করবে না ভোট দেবে না। নন্দীগ্রামের সন্ত্রাস নিয়েও এদিন মুখ্যমন্ত্রী সরব হন। তিনি বলেন, জানেন আমার একটা ছেলেকে এমন মার মেরেছে  বলরামপুরে, জানিনা সে বাঁচবে কিনা। এখন কোমায় আছে। কাল তাঁর বাড়িতে আমি গিয়েছিলাম। আমার গাড়ি ধরে হামলা করছে। আমার গাড়িতে হামলা করছে এত বড় সাহস। আমি শুধু ইলেকশন চলছে বলে চেপে যাচ্ছি না হলে দেখে নিতাম। এমনকি মেয়েদেরকে বলছে, তৃণমূল করলে তুলে নিয়ে চলে যাব। বলে কি এত বড় ঔদ্ধত্য, এত বড় অহংকার। এই গুন্ডা মীরজাফরের দল বলে কি। উত্তরপ্রদেশে হাথরাস করবে বলে বাংলায় তাই করবে?‌ হাত দিয়ে দেখ একটা মেয়ের গায়ে। সব প্রেসের সামনে বলেছে মেয়েরা। বলেছে, বাড়ির ছেলেদের লুট করে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলেছি, একটা  লুট করে দেখিস তো। তারপরে তোর গদ্দারি  চেহারাটা কিভাবে দেখতে হয় আয়নায় আমিও দেখবো। তিনি বলেন,  শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করো। ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়বে, ভোট করতে এত ভয় কেন?‌ বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গুন্ডা পাঠিয়েছো, বিহার থেকে বন্দুক পাঠিয়েছো, এখনও নন্দীগ্রামে বসে আছে। ইলেকশন কমিশনকে বলে বলে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গেছে। আমার গলা ব্যথা হয়ে গেছে। আজকে তো ওদের আন্ডারে পুলিশ। আপনাদের কাছে মেসেজ গেল না। আমার পায়ে জখম করার পরেও কালকে আমার গাড়ি ঘিরে তান্ডব করেছে। আপনারা  কোন অ্যাকশান নেননি। কালকেও রাতের পর রাত নন্দীগ্রামের বোয়াল অঞ্চলে, গোকুলনগর অঞ্চলে, আরও কয়েকটা জায়গা আছে , সেখানে গিয়ে রাত্রি ভোর ভয় দেখিয়েছে। শুনুন, আমি যদি বলি আমার ছেলেদেরকে একটু তাড়া কর, দৌড়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু আমি এটা করছি না বলে এটা আমার দুর্বলতা নয়। কারণ আমি চাই নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণভাবে হোক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাবা-‌ ঠাকুরদা-‌ জ্যাঠামশাইদের আমার দেখা আছে। কত বড় সাহস। পুলিশ তেড়ে গেলেই পালিয়ে যায়। নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময় পনেরো কুড়িদিন দেখা যায়নি রাস্তায়। ভয়ে গুটিয়েছিল। আর সিপিএমের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করেছিল। আর যে নব সামন্তর বাড়ি থেকে গুলি চলেছিল, ভরত-‌সেলিম মারা গিয়েছিল, আজকে তাদের দিয়ে বিজেপি করাচ্ছে। তাদের দিয়ে গুন্ডামি করাচ্ছে। আমি গুন্ডাগুলোর নাম-‌চেহারা সব ভিডিওতে ভালো করে তুলে রেখে দিয়েছি। ইলেকশনটা হোক। আর ৪৮ ঘন্টা। বাংলায় ইলেকশনটা হয়ে যাক। তারপর আমি দেখব কত ধানে কত চাল। দেখব কোন্ গদ্দার তোমাকে কতটা শেল্টার দিতে পারে। কোথায় যাবে, দিল্লি?‌ কোথায় যাবে বিহার?‌ কোথায় যাবে উত্তরপ্রদেশ?‌ না কোথায় যাবে রাজস্থান?‌ যেখানেই যাও রবিন মান্নাকে খুন করে যদি মনে কর ছাড়া পাবে, কান ধরে টেনে নিয়ে আসব যেখানেই যাও। আরও অনেক কিছু আছে। কেস খুঁড়ে বের করব। করিনি ভদ্রতা করে। অত বেশি বাড়াবাড়ি করতে যেও না। নন্দীগ্রামে ভোট হলে আসলে একশ জনের আমাকে একশ জনই ভোট দেবে।। সেজন্যই ভয় দেখাচ্ছে। এদিন উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কেউ ভুলভ্রান্তি করলে আমি তাদের হয়ে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু মনে রাখবেন গুন্ডা বিজেপি যেন বাংলা দখল করতে না পারে। বহিরাগত গুন্ডারা যে অত্যাচার চালাচ্ছে তার থেকে মা-বোনেরা এলাকাকে বাঁচান। বাংলার কৃষিকে বাঁচান, বাংলার শিল্পকে বাঁচান, বাংলার মা-বোনেদের বাঁচান, বাংলার ছাত্র যৌবনকে বাঁচান,  বাংলার সভ্যতাকে বাঁচান, বাংলার সংস্কৃতিকে বাঁচান। এদিন মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও মমতা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, গ্যাসের দাম কত?‌ কিসের রান্না করেন?‌ কেরোসিনের দাম কত?‌ পাওয়া যাচ্ছে না।  আর গ্যাসের দাম হাজার টাকা হয়েছে প্রায়। আর সব ভর্তুকি বিজেপি খেয়ে নিচ্ছে।  বিনা পয়সায় চাল দেব, আর হাজার টাকার গ্যাসে চাল ফুটবে। বিজেপিকে ফোটান ভালো করে। বলবেন, আয় দেখে যা, বিনা পয়সার চাল ফোটাতে আমার হাজার  টাকা লাগছে। এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী  হুগলি জেলায় যে সমস্ত উন্নয়ন কাজ হয়েছে সে কথা তুলে ধরেন। এই সভা থেকে তিনি গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার, আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মন্ডল, পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থীী দিলীপ যাদব এবং খানাকুলের তৃণমূল প্রার্থী মুন্সি নজবুল করিমকে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। 

Loading