সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ পালিত হচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জামাইষষ্ঠী। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই লৌকিক উৎসব পালিত হয়, যা মূলত বিবাহিত মেয়ের জামাইকে নিমন্ত্রণ করে আদর-আপ্যায়নের দিন হিসেবে পরিচিত।
বাংলা সংস্কৃতিতে জামাইষষ্ঠী শুধু পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ানোর দিন নয়, এটি একধরনের সামাজিক আচার ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। এই দিনে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইকে বিশেষভাবে নিমন্ত্রণ করে বিভিন্ন রকমারি খাবার, যেমন—ইলিশ মাছ, খাসির মাংস, পায়েস, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে বাঙালি কায়দায় আপ্যায়ন করা হয়। অনেক বাড়িতে ষষ্ঠীদেবীর পূজাও হয়, বিশেষ করে মেয়ের মঙ্গল ও জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনায়।
জামাইষষ্ঠীর মূল ভাবনা একসময় কেবলমাত্র ধর্মীয় ও পারিবারিক পরিধিতেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এটি একপ্রকার সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। শহরাঞ্চল হোক বা গ্রামবাংলা—প্রতিটি পরিবারে এই দিনে আনন্দ, উৎসব, ও খাওয়া-দাওয়ার আমেজ বিরাজ করে।
এক প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী, এক লোভী বউ তার শ্বশুরবাড়ির খাবার চুরি করে খেত এবং চুরির দোষ দিত ষষ্ঠী দেবীর বাহন বিড়ালটির উপর। ষষ্ঠী এই মিথ্যা অভিযোগে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তার সন্তানদের প্রাণ কেড়ে নেন। এই ঘটনায় বউ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরে ষষ্ঠী বৃদ্ধা রূপে তার কাছে গিয়ে তার কৃতকর্ম স্মরণ করিয়ে দেন। বউ ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলে দেবী তার সন্তানদের প্রাণ ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সমাজের মানুষ যখন এ অপকর্ম জানতে পারে, তখন তাকে মা-বাবার বাড়ি যেতে নিষেধ করে।
এই ঘটনার পর ষষ্ঠী তিথিতে, সেই বউয়ের মা-বাবা তাকে এবং তার স্বামীকে আমন্ত্রণ জানান শ্বশুরবাড়ি থেকে, এবং সেদিন থেকেই শুরু হয় ‘জামাইষষ্ঠী’ পালনের ঐতিহ্য।

![]()

More Stories
পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি কি ‘নিখোঁজ’? রাজ্যসভায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ কেন্দ্রের
প্রকৃতি বন্দনার মহোৎসব: আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা পরব’
হাত ছেড়ে পদ্ম ধরলেন কলকাতার দাপুটে কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক, সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বড় ভাঙন কংগ্রেসে