November 30, 2025

Oplus_16908288

এলাকায় বাড়ছে দূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; এলাকায় দিন দিন বাড়ছে দূষণ। যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য পদার্থ, প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার চলছে দেদার। রাইস মিলের ধোঁয়া ও বর্জ্য থেকেও বাড়ছে পরিবেশ সমস্যা। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে গোঘাট এক নম্বর ব্লকের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ রায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা।

প্রদীপবাবু জানান, *“স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এলাকায় এলাকায় যে সমস্ত সেড নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত ফান্ডের অভাব অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে সেডের ভিতরে বর্জ্য না ফেলে রাস্তার ধারে ফেলা হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়।”*

তিনি আরও বলেন, *“প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রায় সমস্ত দোকানেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে অপচনশীল প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগে। চায়ের কাপ ও প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থাটা একদম উপর মহল থেকে কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।”*

রাইস মিল নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, *“রাইস মিলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে মিলের ড্রেনেজ জল ও ধানের তুষ থেকে সৃষ্ট ছাই কৃষিক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে পোড়া ছাই, পথচারীদের চোখে সেই ছাই পড়ছে। ফসলের পাতায় ছাই জমছে, যা ফলনের ক্ষতি করছে। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে এসে মিল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।”*

ধান কাটার মরশুমে পরিবেশ দূষণের আরেক বড় কারণ ‘নারা পোড়ানো’। প্রদীপ রায় বলেন, *“আধুনিক মেশিনে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তার পরেই শুরু হয় নারা পোড়ানো। প্রশাসন থেকে বারবার মাইকিং ও প্রচার সত্ত্বেও কিছু কৃষক এখনো জমিতে নারা পোড়াচ্ছেন। তবে আগের তুলনায় অনেকটাই কমানো গেছে।”*

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন তিনি। *“গ্রামের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি আগের থেকে অনেক ভালো পরিষেবা দিচ্ছে। বিকেল তিনটার পর গেলেও পরিষেবা পাওয়া যায়। সপ্তাহে একদিন ব্লাড সুগার ও ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০ শয্যা বিশিষ্ট প্রসূতি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।”*

আমাদের চ্যানেলের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, পরিবেশ রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয় — নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এলাকাভিত্তিক ছাত্র, শিক্ষক ও সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হলে প্রশাসনও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। এই প্রসঙ্গে প্রদীপ রায় বলেন, *“এই ধরনের টিম গঠন করা যেতে পারে। আপনাদের এই পরামর্শ সত্যিই  প্রশংসনীয়।”*

Loading