সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ নীল রক্তের এক আশ্চর্য প্রাণী—হর্সশু কাঁকড়া। দেখতে অনেকটা ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি শান্ত স্বভাবের সামুদ্রিক আর্থ্রোপড। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রাণীর উৎপত্তি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে—ডাইনোসরেরও বহু আগে। কোটি কোটি বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে টিকে থাকার কারণে একে বলা হয় ‘লিভিং ফসিল’ বা জীবন্ত জীবাশ্ম।
নামের মধ্যে ‘কাঁকড়া’ থাকলেও হর্সশু কাঁকড়া আসলে সত্যিকারের কাঁকড়া নয়। গবেষণা অনুযায়ী এরা কাঁকড়ার চেয়ে মাকড়সা ও বিচ্ছু জাতীয় প্রাণীর সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ। বিশ্বে হর্সশু কাঁকড়ার মাত্র চারটি প্রজাতি রয়েছে, যাদের দেখা মেলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আমেরিকার উপকূলবর্তী অঞ্চলে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, হর্সশু কাঁকড়ার রক্ত নীল। মানুষের রক্ত লাল হয় হিমোগ্লোবিনের কারণে, কিন্তু হর্সশু কাঁকড়ার রক্তে অক্সিজেন বহন করে তামাযুক্ত হিমোসায়ানিন, যা রক্তকে নীল রঙ দেয়। তাদের রক্তে থাকা অ্যামিবোসাইট নামের বিশেষ কোষ ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত করলেই জমাট বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হর্সশু কাঁকড়ার রক্ত থেকে তৈরি হয় LAL (Limulus Amebocyte Lysate), যা ভ্যাকসিন, ইনজেকশন, স্যালাইন, সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূষণ আছে কি না তা পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকা এই প্রাণী আজ বিপদের মুখে। উপকূল ধ্বংস, অতিরিক্ত শিকার এবং চিকিৎসা শিল্পে রক্ত সংগ্রহের কারণে অনেক এলাকায় হর্সশু কাঁকড়ার সংখ্যা কমছে। পরিবেশবিদদের দাবি, চিকিৎসা গবেষণার পাশাপাশি এই প্রাণী সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়তে পারে।
প্রকৃতি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনন্য যোগসূত্র—হর্সশু কাঁকড়া—আজও প্রমাণ করছে, মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রকৃতির অবদান কতটা অমূল্য।


![]()

More Stories
গাছের জন্য একটি গভীর জলসেচ ব্যবস্থা
এলাকায় বাড়ছে দূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
সবুজের টানে সাইকেলে জয়পুর জঙ্গলে তিন কলকাতাবাসী