November 30, 2025

oplus_0

গোঘাটের কামারপুকুরে ভট্টাচার্য পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো — এক আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ:গোঘাটের কামারপুকুরে ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে আজও জীবন্ত এক পুজো—ভট্টাচার্য পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো। ১৯৯২ সালে যে পুজোর পুনর্জাগরণ ঘটেছিল, সেই পুজো আজ তেত্রিশ বছরে পা দিয়েছে। তবে এই পুজোর শিকড় আরও প্রাচীন। পরিবারের পূর্বপুরুষরাও একসময় এই দেবীপূজা করতেন, কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘদিন তা বন্ধ ছিল।পরিবারের গৃহকর্তা শিবাজী ভট্টাচার্যের স্ত্রী রুনু ভট্টাচার্য একদিন স্বপ্নাদেশ পান—মা আসতে চাইছেন। তিনি দর্শনে দেখেন চতুর্ভূজা নারীর মূর্তি, পরম শান্ত রূপে প্রকাশিত দেবীমূর্তি। সেই নির্দেশেই শুরু হয় নতুন করে জগদ্ধাত্রী পুজোর যাত্রা। রুনু দেবী মৃৎশিল্পীকে প্রতিমার অবয়ব বর্ণনা করে দেন, আর ঠিক তেমনভাবেই মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় ডাক সাজে। তান্ত্রিক পদ্ধতিতে পালিত হয় এই পূজা। প্রথম বছর প্রথা অনুযায়ী বলি দেওয়া শুরু হলে,পরে নানা সমস্যায় পরিবার সেই প্রথা পরিত্যাগ করে। পরিবারের গুরুদেবের নির্দেশেই বলি প্রথা বন্ধ হয়। ভট্টাচার্য পরিবারের গুরুদেব দর্শন করে বলেছিলেন— *“জগদ্ধাত্রী মা এই গৃহে জাঁকিয়ে বসেছেন, এই পুজো আর কখনও বন্ধ হবে না।”*এই আশীর্বাদের মতোই প্রতি বছর নবমীর দিন গোঘাটের কামারপুকুর ভরে ওঠে ভক্তির আবেশে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমীর পূজা একত্রে নবমীর দিন অনুষ্ঠিত হয় এবং পরের দিন দশমী পূজা হয়। নবমীতে ভট্টাচার্য পরিবার করেন নরনারায়ণ সেবা—প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভক্তের হাতে প্রসাদ তুলে দেওয়া হয়। পুজোর অন্যতম আচার হল সাত রূপ চণ্ডীপাঠ এবং কুমারী পুজো যা গোটা পরিবেশকে ভরিয়ে তোলে মন্ত্রধ্বনি ও ধূপের গন্ধে। রানু দেবী নিজে কুমারী পুজো করেন আজও। শিবাজী ভট্টাচার্য বলেন, “মা শুধু আমাদের পরিবারের নন, তিনি গোটা কামারপুকুরের রক্ষাকর্ত্রী। মা এলে আমাদের ঘরে আলো জ্বলে, আশীর্বাদ ছড়িয়ে পড়ে সকলের জীবনে।” তেত্রিশ বছরের এই পুজো আজ শুধু এক পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, এটি এক ভক্তির উত্তরাধিকার, যেখানে আবেগ, সংস্কার ও আধ্যাত্মিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। প্রতি বছর মায়ের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গোঘাটের বাতাসে ভেসে ওঠে এক অদৃশ্য আনন্দধ্বনি—“জয় মা জগদ্ধাত্রী।”

Loading