November 30, 2025

দিল্লিতে তীব্র বায়ু দূষণ মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টি পরীক্ষার সূচনা — আইআইটি কানপুরের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক উদ্যোগ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ তীব্র বায়ু দূষণে দম বন্ধ হয়ে আসছে জাতীয় রাজধানীর আকাশ। তারই মধ্যে এবার আশার আলো—দিল্লিতে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির পাইলট প্রকল্পের পরীক্ষা।
পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানান, গতকাল আইআইটি কানপুরের নেতৃত্বে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে, যা রাজধানীর বায়ু মান উন্নত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইআইটি কানপুরের নেতৃত্বে ‘মেঘ-সৃষ্টি’ অভিযান

মন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃত্রিম মেঘ তৈরি ও বৃষ্টি ঘটানোর জন্য একটি সেসনা (Cessna) বিমান কানপুর থেকে উড্ডয়ন করে নির্ধারিত এলাকাগুলি অতিক্রম করেছে — খেকরা, বুরারি, উত্তর করোলবাগ, ময়ূর বিহার, সাদকপুরভোজপুর-এর আকাশে বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। এরপর বিমানটি মীরাট বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এটি দিল্লিতে দ্বিতীয়বার কৃত্রিম বৃষ্টি পরীক্ষার প্রয়াস। এর আগে ২০২৩ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়াস হয়েছিল, কিন্তু অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে তা আংশিক সফল হয়েছিল। এবার আইআইটি কানপুরের বিজ্ঞানীরা আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যাতে জলকণার ঘনত্ব বাড়িয়ে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানো সম্ভব হয়।

দিল্লির বায়ু মান সূচক (AQI) ইতিমধ্যেই ‘গুরুতর’ স্তরে পৌঁছে গেছে, যেখানে বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার (PM 2.5 ও PM 10) মাত্রা বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বৃষ্টি হলে বাতাসের ধূলিকণা ও দূষণ কণাগুলি বৃষ্টির জলে মিশে মাটিতে পড়বে, ফলে বাতাসের মান কিছুটা উন্নত হবে।

পরিবেশমন্ত্রী সিরসা জানিয়েছেন, “এটি শুধুমাত্র একটি পাইলট প্রজেক্ট নয়, বরং দূষণের বিরুদ্ধে একটি বাস্তবসম্মত লড়াইয়ের সূচনা। পরীক্ষাটি সফল হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে দিল্লি ও এনসিআর জুড়ে।”

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ও পরিবেশবিদরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন, “কৃত্রিম বৃষ্টি অস্থায়ী স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দূষণ কমাতে মূল কারণগুলির সমাধান — যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ ধুলা ও শিল্প নিঃসরণ — রোধ করতেই হবে।শেষ কথাদিল্লির দূষণ এখন জাতীয় সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। সেখানেই এই কৃত্রিম বৃষ্টি উদ্যোগ হয়তো কিছুটা আশার সঞ্চার করতে পারে। প্রযুক্তির সহায়তায় মানুষ যদি প্রকৃতির ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সামান্যও এগোতে পারে, তবে সেটিই হবে আজকের দূষণযুগে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

Loading