সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি কড়া চিঠি পাঠালেন। তিন পাতার এই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া “অপরিকল্পিত, বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক”ভাবে রাজ্যে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারি কর্মী, বিশেষ করে ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) ওপর অস্বাভাবিক কাজের চাপ নেমে এসেছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়েছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এসআইআর শুরুর দিন থেকেই যোগাযোগের স্বচ্ছতা ছিল না। প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বাধ্যতামূলক নথিপত্র নিয়ে অস্পষ্টতা এবং ভোটারদের জীবিকা-সংক্রান্ত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনতায় এই প্রক্রিয়া “ঢালাওভাবে ত্রুটিপূর্ণ” হয়ে উঠেছে।
BLO–দের ‘অমানবিক কাজের চাপ’
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, শিক্ষক ও অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কর্মীদের উপর অস্বাভাবিক দায়িত্ব চাপানো হয়েছে—
- নিয়মিত দায়িত্ব সামলানো,
- পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা,
- জটিল ই-ফর্ম জমা,
- সার্ভার বিভ্রাট ও বারবার তথ্য-বিভ্রান্তি।
তিনি জানান, অনলাইনে তথ্য আপলোডে অপ্রতুল প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সময়মতো কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের ৪ তারিখের মধ্যে একাধিক আসনের ভোটার তথ্য আপলোড করা সম্ভব নাও হতে পারে। সময়ের চাপে ভুল বা অসম্পূর্ণ এন্ট্রি জমা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা “বাস্তব ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে”।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, সময়সীমা বৃদ্ধি বা কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার বদলে নির্বাচন কমিশনের রাজ্য অফিস “ভয় দেখানো ও শোকজ নোটিস জারি করার” পথ অবলম্বন করেছে। এতে BLO–রা আরও মানসিক চাপে পড়ছেন।
বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম এবং একযোগে রবি বীজ বোনার কাজ চলছে—এই পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ কৃষক-শ্রমিকদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জলপাইগুড়ির মাল এলাকায় এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, যিনি BLO হিসেবেও কাজ করছিলেন, এসআইআর–এর চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। রাজ্যে আরও কয়েকজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে—যা “অসহনীয় মানবিক মূল্য” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা, বাধ্যতামূলক চাপ বন্ধ করা, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সময়সীমার পুনর্মূল্যায়ন—এগুলো নিশ্চিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চান। তিনি সতর্ক করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর পরিণতি “অপূরণীয়” হতে পারে।



![]()

More Stories
পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের ডাক ব্রিগেডে, রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ সনাতন সংস্কৃতি সংসদের
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইভিএম–ভিভিপ্যাটের এফএলসি শুরু রাজ্যে, চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত
হাতুড়ে ডাক্তারি বনাম পাশ করা ডাক্তার—অরাজকতার জঞ্জালে বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা