ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা
সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হলো। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আজ ভোরে ঢাকার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রথম নারী নেত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মোট তিনবার (১৯৯১-১৯৯৬, ১৯৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদে এবং ২০০১-২০০৬) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এবং এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশজুড়ে তাঁর এক বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে যারা তাঁকে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেন।
গত কয়েক বছর ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা এবং লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগে ভুগছিলেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল রাতেই তিনি দিল্লি থেকে ঢাকা পৌঁছেছেন। সাম্প্রতিক ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে এই ঘটনাকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
সূত্রের খবর, বিদেশমন্ত্রকের শীর্ষ পর্যায় থেকে হাইকমিশনারকে অবিলম্বে ঢাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত এই তলবের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ইস্যু, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বহুমাত্রিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মধ্যে হাইকমিশনারকে ঢাকায় ডেকে পাঠানোয় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ডেকে পাঠানো হলে তা কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হয়। এতে নীতিগত সিদ্ধান্ত, কৌশলগত পরামর্শ অথবা আসন্ন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী দিনে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।

![]()

More Stories
ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত: শুল্ক হ্রাস, বিরল খনিজে সহযোগিতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বাড়ছে, উদ্বেগ প্রকাশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
নিরাপত্তা জোরদারে ১ কোটিরও বেশি ভিসা বাতিল করল আমেরিকা